দিরাইয়ে জলমহালে তিন জেলে হত্যা মামলা পুনর্তদন্ত করবে পিবিআই

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলায় একটি জলমহালের দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী ও যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জেলে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই মামলায় দেওয়া সিআইডির অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পুনর্তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদার এই আদেশ দেন।
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের পাশের জারলিয়া জলমহালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাতিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম, আকিলনগর গ্রামের সাহারুল ইসলামও উজ্জ্বল মিয়া মারা যান। এর মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে এবং দুইজন মারা যান হাসপাতালে নেওয়ার পর। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আরও ২২জন।
এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি দিরাই থানায় ৩৯জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন দিরাই উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য একরার হোসেন। জলমহাল লুটপাটের অভিযোগে একই দিন একরার হোসেনসহ ২৯জনকে আসামি করে থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন স্থানীয় দক্ষিণ নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় রায়।
একরার হোসেনের দায়ের করা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে দিরাই থানা পুলিশ। পরে মামলা সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির।
জহিরুল হক গত ৪ এপ্রিল আদালতের মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তিনি ৩৯ আসামির মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। এই ১৪ জনের মধ্যে দিরাই পৌরসভার মেয়র ও দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়া, দিরাই উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় এবং দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা হাফিজুর রহমানও ছিলেন।
মামলার বাদী গত ১৫এপ্রিল এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। শুনানি শেষে নারাজি আবেদন গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার আদালত মামলাটি পুনর্তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।
সিআইডির পরিদর্শক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কারণে একরার হোসেন তার মামলায় মোশারফ মিয়া, প্রদীপ রায় ও হাফিজুর রহমানকে আসামি করেছেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আছে। রাজনৈতিক কারণে মোশারফ মিয়াকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তদন্তে মোশারফ মিয়া জলমহালে জড়িত কিংবা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রদীপ রায় ঘটনার সময় ঢাকায় জাতীয় সংসদে এলাকার নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সঙ্গে দেখা করার জন্য সেখানে ছিলেন। তিনি ওই জলমহালে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করেননি। হাফিজুর রহমানও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিংবা জলমহালে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণ হয়নি।
মামলার বাদী একরার হোসেন গতকাল বলেছেন,‘দিনে-দুুপুরে প্রকাশ্যে তিনজন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হলো। অথচ সিআইডি কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে দেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাবে এবং অনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এই অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন।’ তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিআইডির কর্মকর্তা জহিরুল হক।
বাদী পক্ষের আইনজীবী প্রদীপ কুমার নাগ মামলাটি পুনর্তদন্তে আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



আরো খবর