দিরাইয়ে ড্রেজার মেশিনে নদীর বালু উত্তোলন করে বিক্রি

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাইয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের বুয়ালিয়া বাজার এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন লোকের বাড়ীসহ পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। দুই মাস ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বোয়ালিয়া বাজার সংলগ্ন ও সুরিয়ারপাড় এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন
করে বিক্রি করছে। এলাকার তাজ উদ্দিন, মান্নান মিয়া ও হাসিম মিয়া জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে একটি চক্র কুশিয়ারা নদীর বালু উত্তোলন করে এলাকার শরাফত মিয়া ও হানিফ মিয়ার কাছে বিক্রি করেছেন। এ বালু দিয়ে তাদের পুকুর ভরাট করছেন।
কুলঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া জানান, দক্ষিণ সুরিয়ার পার গ্রামের মিরাস আলী ও টেংরাখালী গ্রামের তৌফিক মিয়া গংরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর বালু তুলে বিক্রি করছেন। আমরা এলাকাবাসির পক্ষ থেকে নিষেধ করলেও তারা মানছেন না। কার পারমিশনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলছে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের পারমিশন নিয়ে তারা এ কাজটি করছেন।
এসব অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে তৌফিক মিয়া বলছেন, আমরা এই ব্যবসা করি না। মাসখানেক আগে মির্জাকান্দার বাচ্চু মিয়া বালু মসজিদে ও মন্দিরে দিয়েছেন। গত পরশু দিন তিন বুঝাই বালু শরাফত মিয়ার পুকুরে দিয়েছি। এরপর মেশিন চলে গেছে।
তবে চেয়ারম্যান বলছেন, তৌফিক ভাই মসজিদের জন্য কয়েক নৌকা বালু উত্তোলনের কথা বলেছেন। আর তো কিছু জানি না। কিন্তু কোন মসজিদে বালু উত্তোলন করা হয়েছে তা বলতে পারেননি চেয়ারম্যান। নদীর মালিক তো আমি নই যে বালু বিক্রির পারমিশন আমি দেব। খোঁজ নিয়ে আমি দেখছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক ব্যাক্তি জানান, দুই মাস ধরে প্রতি ফুট বালুতে চেয়ারম্যানকে ৫০ পয়সা দেয়ার শর্তে ইতিমধ্যে কয়েক লাখ ফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইউএনও মো. সফি উল্লাহ বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে মসজিদের জন্য কিছু বালু তুলতে বলছিল, আরতো কিছু জানি না। বিষয়টি আমি দেখছি।