দিরাইয়ে হানাদার মুক্ত দিবস পালন

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাইয়ে র‌্যালি, পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচিসহ নানা আয়োজনে পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় দিরাই প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা খেলাঘরের উদ্যোগে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে
স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্কবক অর্পণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফি উল্লাহ, দিরাই সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল, সহকারী প্রধান শিক্ষক লালবাশী দাস, পৌর কাউন্সিলর সবুজ মিয়া, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ চৌধুরী, খেলাঘর দিরাই উপজেলা সভাপতি সুধাসিন্ধু দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সাগর দাস, দপ্তর সম্পাদক গৌরাঙ্গপদ দাস, শেখ মোহাম্মদ আল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উপদেষ্ঠা মুরাদ মিয়া, সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক সুবির চন্দ্র দাস, প্রচার সম্পাদক খোকন রায়, গোলাপ দাস, ডা. প্রশান্ত তালুকদার, স্বপন কান্তি দাস, হেলাল মিয়া, হেলু মিয়া, ঝুটন সুত্রধর প্রমুখ।
বেলা সাড়ে ১১টায় ভাটি বাংলা এলপিএস ফাউন্ডেশন হলে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি সোয়েব হাসানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ চৌধুরীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আতাউর রহমান, সাবেক পৌর কমান্ডার সিরাজ মিয়া, দিরাই পৌরসভার প্যানেল মেয়র বিশ^জিত রায়, কাউন্সিলর সবুজ মিয়া, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড দিরাই উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাহাত মিয়া রাহাত, অনলাইন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ, সাংবাদিক হিল্লুল পুরকায়স্থ, মিনতি রানী দাস প্রমুখ।
এদিকে হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বুস্টার্সে’র উদ্যোগে সেন মার্কেটের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ রক্ত দান করেন।
উল্লেখ্য ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। খবরটি জানাজানি হলে দিরাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা শিবির উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৭ ডিসেম্বর সকালে দিরাইয়ে অবস্থানকারী পাক বাহিনীদের উপর তিনদিক থেকে আক্রমন শুরু করেন। তীব্র আক্রমনের মুখে এক পর্যায়ে লঞ্চযোগে দিরাই থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী। এদিন বিকেলেই দিরাইয়ের প্রতিটি স্বাধীনতাকামীদের ঘরে বেজে ওঠে বিজয়ের গান, অনেকেই নিজ গৃহে উড়ান স্বাধীন বাংলার পতাকা।