দিরাই-শাল্লায় পানিবন্দি কয়েক হাজার পরিবার

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই-শাল্লা উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। এরইমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েকে হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার মানুষের ঘরবাড়ি। কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়িঢলে উপজেলায় বহমান কালণী নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে হাওরের পানি উপচে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দিরাই পৌর সদরসহ উপজেলা দুটির ১৩ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই বন্যার পানি উঠে পরেছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে অনেক মৎস্যচাষিদের পুকুরের মাছ।
দিরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, এ পর্যন্ত বন্যানয় ৬৭টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় নব্বই লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
শাল্লা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুন আহমেদ জানান, এপর্যন্ত উনার উপজেলায় ৭টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।
দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তালুকদার জানান, তাঁর ইউনিয়নের তেতৈয়া, হাতিয়া, কুলঞ্জ, তারাপাশা, রাড়ইলসহ বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি উঠেছে। হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছু পরিবারকে নিয়ে আসা হয়েছে।
জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই বানের পানি উঠেছে। আক্রান্ত পরিবারগুলো তাদের গবাদিপশুগুলো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাইছেন না।
পানি উন্নয়নবোর্ড পাউবোর উপজেলা সমন্ময়কারী রিপন আলী জানান, আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত কালনীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরদিয়ে বহমান সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপরে রয়েছে। সেই পানি এদিক দিয়ে নামছে। যে কারণে বৃষ্টি না হলেও পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সফি উল্লাহ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহযোগীতার জন্য জিআরের ৪৫০ মে.ট. চাল ও ২লক্ষ ৯৭হাজার টাকা মজুদ রয়েছে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আল আমিন চৌধুরী জানান, পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনিটরিং সেলের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদ প্রস্তুত রয়েছে।