দুঃসহ এই করোনাকাল

ইকবাল হোসাইন খান
অত্যন্ত কঠিন এক সময় পার করছি আমরা । মহামারী করোনা ভাইরাসের আশংকাজনক বিস্তারে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব । আক্রান্তের সংখ্যা এখনো সহনীয় মাত্রার মধ্যে আসছে না । ক্রমশঃ দীর্ঘায়িত হচ্ছে সকরুণ মৃত্যুর মিছিল। কখন যে কে আক্রান্ত হয় , এই ভয়ে সন্ত্রস্তÍ সবাই। ভয়াল এই সময়ের আগ্রাসন থেকে মুক্তির ক্ষীণ আশাবাদ মনের মধ্যে জাগরুক রেখেই মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপনের প্রাণপণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে বাধ্য হচ্ছে । দুঃসহ এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আশা জাগানিয়া আলোর সামান্য ফোকাস মাঝে-মধ্যে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে। এতেই মানুষ বেঁচে থাকার আকূল আশায় বুক বেঁধে দিনাতিপাত করছে । গোটা মানব জাতির ইতিহাসে এ ধরণের সর্বব্যাপী বৈশ্বিক মহামারীর উদাহরণ নিকট বা দূর অতীতে আছে বলে কারো জানা নেই । বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশ সমূহের সরকার যার যার সাধ্যমতো দায়িত্বশীলতার সাথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এই মহামারীর করাল বিস্তার রোধ করার জন্যে। টিকা কিংবা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের প্রচেষ্টাও এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখে নি। আশা-নিরাশার এই সুকঠিন দ্বৈরথে শেষাবধি আশাবাদের প্রদীপ্ত সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হোক মানব সভ্যতা-এটাই এই সময়ের একমাত্র কাম্য ।

চাকুরীর সুবাদে অবস্থান করছি রাজধানী ঢাকায় । ঢাকা এখনও করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে । সরকারি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআরবি-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষের করোনা সংক্রমণ ঘটে গেছে।(সূত্রঃ প্রথম অলো,১৩ অক্টোবর,২০২০)। এদিকে আবার আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার আশংকা নিয়েও চিন্তিত সবাই। আতংকের নগরীতে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এই জনপদ । একমাত্র আল্লাহই জানেন পরিস্থিতি কতদূর গড়াবে । ইতোমধ্যে ঢাকা ,সিলেট, এবং সুনামগঞ্জে অবস্থানরত কয়েকজন নিকটাত্মীয় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন । ঢাকায় আমাদের বেশ কিছু নিকটাত্মীয়ের স্থায়ী বসবাস । মহান আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবাণী যে,আমাদের সবার উপরে বটবৃক্ষের ছায়া বিস্তার করে নজিরবিহীন দায়িত্বশীলতার সাথে প্রতিনিয়ত আমাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আমার শ্রদ্ধেয় সম্বন্ধী ,বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান তথ্য কমিশনার জনাব মরতুজা আহমদ । কিছু মানুষের জন্মই হয় আন্তরিক সেবায় আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে সকলের অকৃত্রিম ভরসাস্থল হিসেবে। এই আত্মকেন্দ্রীকতার যুগে নিঃসন্দেহে জনাব মরতুজা আহমদ সেই বিরল প্রসূতদের একজন । তিনি প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে কখনো ফোনে কখনোবা ভিডিও কলে সবাইকে মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন । ছোটবড় অসুখ-বিসুখে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে টেলিকম্যুনিকেশনের মাধ্যমে কার্যকরী পরামর্শ নেয়ার ব্যবস’া করে দিচ্ছেন । এমনকি বিশেষ প্রয়োজনে স্ব-উদ্যোগে গাড়ি পাঠিয়ে জরুরী স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের সুবন্দোবস্ত করে দিচ্ছেন- যা’ এই সময়ের জন্যে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামতই বলতে হবে । আল্হামদুল্লিাহ্ । সুনামগঞ্জ ও সিলেট থেকে আমার বোন ও ভাইয়েরা ফোনে খবরাখবর নিচ্ছে । দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত আমার খালাতো ভাই-বোনেরা নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রেখে আত্মীয়তার বন্ধনকে সময়ের বিচারে বলতে গেলে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে । ভগ্নিপতিরাও খবরাদি নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর এবং আন্তরিক । আব্বা-আম্মা তো নেই । তাঁদের অভাব কি আর কখনো পূরণ হয় ! মাতৃপ্রতিম আমার বড় এবং ছোট খালাম্মা সুনামগঞ্জ থেকে প্রতিনিয়ত ফোনে খবর নিয়ে পিতা-মাতার ¯েœহ বঞ্চিত হৃদয়ে যেনো শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন অহর্নিশ । সেই সাথে আমার অশীতিপর শাশুড়ি,যিনি জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ট রতœগর্ভা মা’ হিসাবে রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করে বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন-কয়েকদিন পরপরই ভিডিও কলে দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলে আমাদের মনোবল চাঙ্গা রাখছিলেন , অন্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন চিরন্তন মাতৃত্বের অমিয় ধারা । অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে,তিনি সহ তাঁদের সুনামগঞ্জের বাসায় প্রায় একযোগে ছয় জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন । আমার শ্রদ্ধেয় বড় সম্বন্ধী সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট ফারুক আহমদ-এর বড় ছেলে ঢাকায় তার চাকুরীস্থলে কর্মরত থাকাবস্থায় সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো । উদ্বেগ,উৎকন্ঠা,আতঙ্ক আর মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দুঃস্বপ্নের মতো এই ক্রান্তিকালের দিনগুলো কোনমতে পার করছি । মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণী যে, আমার শাশুড়ি সহ শ্বশুরবাড়ির সকলেই করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন । কিন্তু তার আগেই ঢাকার দু’জন আত্মীয় নিষ্ঠুর করোনার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পরম করুণাময়ের সান্নিধ্যে চলে গেছেন । তন্মধ্যে আমার শ্বশুর শিক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এ্যাসিট্যান্ট ডাইরেক্টর মরহুম আলহাজ আজিজ উদ্দিন আাহমদ (রহঃ)-এর চাচাতো ভাই সুনামগঞ্জ পিটি স্কুলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মরহুম আলহাজ যৈন উদ্দিন আহমদ সাহেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডাঃ জালাল ভাইয়ের স্ত্রী গাইনোলজিষ্ট ডাঃ কাজী দিলরুবা ভাবী ইন্তেকাল করলেন ঈদুল ফিতরের আগের শুক্রবার সকালে । অতিশয় পরোপকারী,সদালাপী ও উদারপ্রাণ ডাঃ দিলরুবা ভাবীর অবদান ভোলার মতো নয় । আমার দুই সন্তানেরই জন্ম হয়েছে ঢাকায় হাসপাতালে জটিল অপারেশনের মাধ্যমে । উভয় সন্তানের জন্মের সময়ই তিনি অপারেশন থিয়েটারে ঠাঁয় উপস্থিত থেকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে আমাদের পরিবারকে চির ঋণী করে রেখেছেন। অত্যন্ত ধার্মিক ডাঃ দিলরুবা ভাবীর মৃত্যু হয়েছে পবিত্র রমজান মাসের জুমাতুল বিদা’র দিনে । এমন বরকতময় মৃত্যু সবার ভাগ্যে জুটে না । আমার দুই পুত্রকে নিয়ে আল্লাহর দরবারে তাঁর জন্যে দোয়া করেছি আকূল হয়ে । অকালে চলে গেলেন আমাদের আরেক আত্মীয় অত্যন্ত সজ্জন এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত পরিবারের মেধাবী সন্তান, ঢাকা কমার্স কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক ও বিবিএ প্রফেশনাল প্রোগ্রামের পরিচালক প্রফেসর ড.এ এম শওকত ওসমান । মাস কয়েক আগে পঞ্চাশের কোটা পেরোবার আগেই অকস্মাৎ ইন্তেকাল করেছেন প্রয়াত প্রফেসর শওকতের সহোদরা খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ,জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য,জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট ফজিলাতুেন্নসা বাপ্পী। স্বল্প কালের ব্যবধানে একটি আলোকিত পরিবারের দু’জন সদস্যের মৃত্যু যেমন মর্মান্তিক বেদনাদায়ক, তেমনি দেশ এবং জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ । জানি না তাঁদের রতœগর্ভা আম্মা-যিনি এক দশক ধরে ক্যান্সারের সাথে লড়তে লড়তে প্রায় শয্যাশায়ী-কীভাবে দু’দুটি নক্ষত্রসম কলিজার টুকরো সন্তান হারানোর শোক সামাল দিচ্ছেন ! আমি সুনামগঞ্জের সন্তান হিসেবে এই পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সূত্রকে সম্মানজনক মনে করি এই কারণে যে, অনেক বছর আগে অসাধারণ মেধাবী এবং পরকর্তীকালে স্ব স্ব ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ভাই-বোন সমৃদ্ধ এই পরিবারটির অবস্থান ছিলো আমাদের প্রিয় শহর সুনামগঞ্জে । দীর্ঘদিন তাঁরা শহরের আরপিননগর মহল্লায় বসবাস করেছেন । আলোকিত এই পরিবারের কর্তা মরহুম জনাব আবুল খায়ের স¦াধীনতার পূর্ব থেকেই ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান-এর সুনামগঞ্জ শাখার ম্যানেজার ছিলেন । অত্যন্ত সৎ এই ব্যাংকার জীবৎকালে আমার নিকট একদিন গল্পচ্ছলে বলেছিলেন,স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুর দিকে কী করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত গ্রাহকদের আমানতের মোটা অংকের টাকা একজন মাত্র লোক সঙ্গে নিয়ে কখনো হেঁটে,কখনোবা নৌকায় করে সিলেটের ফিডিং ব্রাঞ্চে জমা দিয়ে দায় মুক্ত হয়েছিলেন । স্বাধীনতার পর তিনি রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকেরও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । করোনার ছোবলে হার মানা সদ্য প্রয়াত প্রফেসর ড.শওকত ছিলেন সুনামগঞ্জ পিটি স্কুলের একজন প্রাক্তন ছাত্র । সুনামগঞ্জের প্রতি এই পরিবারের ছিলো একটা আলাদা মমত্ববোধ । ড.শওকত ভাইয়ের সাথে যে কয়বার দেখা হয়েছে ,প্রতিবারই তিনি তাঁর শৈশবের স্মৃতিময় শহরের খোঁজ খবর নিতেন । প্রয়াত অ্যাডভোকেট ফজিলাতুেন্নসা বাপ্পী ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ,অমায়িক ও পরোপকারী । তাঁর সাথে সর্বশেষ দেখা হয়েছিলো গত বছরের ২০জুলাই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-এর এম.ই.এস কনভেনশন হলে আমার এক ডাক্তার ভাগ্নীর বিয়ের অনুষ্ঠানে । স্বল্প সময়ের আলাপচারিতার মধ্যেও তিনি আমার দুই ছেলেকে ডেকে এনে তাদের খবরাদি জেনে নেয়া সহ শৈশবে আমার বড় ছেলে নিহালের কিছু বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তার স্মৃতিচারণ করে হালকা রসিকতাও করলেন ,যা’ সত্যি ভোলার মতো নয়। তাঁদের অন্যান্য ভাইবোনদের সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে অত্যন্ত সম¥ানজনক অবস্থানে অধিষ্ঠিত। বড় ভাই প্রফেসর ড.আবুল কালাম আজাদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন । তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান গবেষক ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা। দ্বিতীয় ভাই প্রফেসর ড. আবুল মনসুর মিল্লাত মযমনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা উভয়েই ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র । ড. আবুল মনসুর মিল্লাতও সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন । আল্লাহর মেহেরবাণীতে সেরে উঠেছেন । অ্যাডভোকেট ফজিলাতুেন্নসা বাপ্পী’র প্রয়াণের পর বর্তমানে তাঁদের একমাত্র বোন প্রফেসর আনোয়ারা বেগম রীতা সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক এডমিনিষ্ট্রেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্বামী হচ্ছেন আমার স্ত্রী’র ছোট ভাই প্রফেসর ড.মুশতাক আহমদ, যিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড সায়েন্সেস এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন হিসেবে কর্মরত আছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রফেসর আনোয়ারা বেগম রীতা অত্যন্ত দানশীল এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রতি দায়িত্বশীল একজন মহিলা । বহু সংখ্যক অনাথ ও পিতৃমাতৃহীন বিবাহ উপযুক্ত কন্যার বিয়ের যাবতীয় খরচাদি প্রফেসর আনোয়ারা বেগম রীতা একাই বহন করে দানশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন । একজন আত্মীয়পুত্রের লেখাপড়ার সমুদয় ব্যয়ভার বহন কবছেন রীতা । তাঁর অপর দুই ভাইয়ের মধ্যে লে:কর্ণেল ডাঃ সাখাওয়াত সেনাবাহিনীর একজন ডাক্তার এবং সর্ব কনিষ্ঠ ভাই আবুল হাসনাত সাবেরীন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা । এঁদের যাঁর সাথেই যখন আমার দেখা হয়েছে,অকৃত্রিম ও হার্দিক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি প্রতিবারই । বাপ্পী আপার আকস্মিক ইন্তেকালের পর আমরা সহানুভূতি জানাতে এবং খালাম্মা অর্থ্যাত তাঁদের শোকাকিভূত আম্মাকে দেখতে মুহাম্মদপুরের জাপান সিটির ফ্ল্যাটে গিয়েছিলাম । এই শোকাবহ পরিবেশেও স্বাভাবিক আদর-আপ্যায়নের কোন কমতি হতে দেননি এই মহিয়সী মা । কিন্তু হায় আফসোস্ ! ড.শওকত ভাইয়ের চরম বিয়োগান্তক ইন্তেকালের পর ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির কারণে খালাম্মাকে দেখতে যেতে পারি নি। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একই পরিবারে দু’দুটি মৃত্যুর ঘটনা অতিশয় বেদনাদায়ক ,যা’ মেনে নেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার । টেলিফোনে দ’ুটো কথা বলে সান্তনা দেয়ার অক্ষম চেষ্টা ভাই-বোন হারা কষ্ট-সাগরে নিমজ্জিত প্রফেসর আনোয়ারা বেগম রীতার হৃদয় নিংড়ানো আর্ত হাহাকারের নীচে তাই প্রতিবারই চাপা পড়ে যাচ্ছে অসহায়ভাবে । এরকম পরিস্থিতিতে সান্তনার সকল ভাষাই বোধ হয় উপযুক্ততা হারিয়ে অক্ষম শব্দাবলীতে পরিণত হয় মাত্র । তবু তো মানুষের মন ! আত্মীয়-স্বজনদের বিপদে-আপদে দু’চারটে সান্তনার কথা উচ্চারণ করতে পারলে কিঞ্চিৎ মানসিক প্রশান্তি অনুভব করা যায়।এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব মানবতার মহান দরদী বন্ধু ,রাহ্মাতাল্লিল ’আলামীন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পবিত্র বাণীই হচ্ছে সর্বোত্তম সান্তনা । প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) বর্র্ণিত দীর্ঘ একটি হাদীসের অংশবিশেষ ঃ সাইয়্যেদুল মুরসালীন রাসূল (সাঃ) মৃত্যু পথযাত্রী একটি শিশুর শোকে কাতর মাতাকে সান্তনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন-
“ সব আল্লাহর ইখতিয়ার । তিনি যা’ চান নিয়ে নেন,আবার যা’ চান দিয়ে যান । তাঁর কাছে সব কিছুর একটি নির্ধারিত সমতা আছে । কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং উত্তম প্রতিদানের আশায় থাকো ।” -সহীহ বুখারী(ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-হাদীস নম্বর-৫২৫৩
আপনজন হারানো সকল শোকাকূল স্বজন যেনো প্রিয় নবী (সাঃ)-এর অমিয় বাণী থেকে সান্তনার পরশ নিতে পারেন- সব কিছুর একক নিয়ন্তা মহান আল্লাহ পাক সোবানাহু তা’য়ালার নিকট কায়মনোবাক্যে এই মোনাজাতই করি ।