দুইপক্ষের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে বিব্রত কুস্তিগীররা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে কুস্তি খেলা নিয়ে দুইপক্ষের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে খেলোয়ারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে আগামী ২৯-৩০ অক্টোবরের কুস্তি খেলা সফল করার জন্য মঙ্গলবার জেলা ক্রীড়া সংস্থায় আয়োজিত ৫ টি উপজেলার ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, কুস্তি অনুরাগী ও আমিনদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী বৃহস্পতিবার একই বিষয়ে ‘ভাটি বাংলা কুস্তি ফেডারেশন’ নামের একটি সংগঠন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকের বাজারে সভা ডেকেছে। ভিন্ন ভিন্ন এই সভা আয়োজনে বিব্রত কুিস্তগীররাও। এদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নুরুল্লা গ্রামের বাসিন্দা কুস্তিগীর মোহাম্মদ শাহানুর আলম টিকেটের বিনিময়ে কুস্তি খেলা দেখার আয়োজন না করার দাবি জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ক্রীড়া সংস্থার সভা শেষে সংগঠকরা জানান, সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে কুস্তিখেলা আয়োজনের জন্য স্পন্সর খোঁজা হয়। স্পন্সর না পাওয়ায় টোকেনমূল্য (৫০ টাকা) দিয়ে স্টেডিয়ামে খেলার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। নামমাত্র টোকেন মূল্য থেকে অংশগ্রহণকারী ৫ টি উপজেলা দলকে আয়োজনের জন্য নগদ সহায়তা, খেলোয়াড় ও টিমের জন্য টি-শার্ট, আমিনদের জন্য টি-শার্ট, গামছা, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক, বিজয়ী ও রানারআপ দলের জন্য নগদ সহায়তা ও ক্রেস্ট এবং আমিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত জামালগঞ্জের আবু সাঈদ হিল্লোল বলেন, খেলায় যাতে আমিন ও খেলোয়াড়রা না আসেন সে জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা কেন এই চ্যালেঞ্জ নিছেন জানি না। উৎসবমুখর এই আয়োজন বাধাগ্রস্ত করে তারা কি করতে চান, এটা আমাদের প্রশ্ন।
টুকের বাজার এলাকার কুস্তিগীর বললেন, আমরা বড় পরিসরে কুস্তি খেলায় অংশ নিতে চাই। এ নিয়ে আমাদের সংগঠকরা দ্বিধাবিভক্ত হলে, আমরা আরেক সমস্যায় পড়বো, কাকে খুশি করবো, কাকে বিরক্ত করবো, এটি খেলায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।
কুস্তি উপকমিটির সভাপতি ও জেলা ক্রিড়া সংস্থার সদস্য আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, অতীতেও আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা স্টেডিয়ামে কুস্তি খেলার সফল আয়োজন করেছি। সেই খেলায় স্পন্সর ছিল। কিন্তু এবার অনেক চেষ্টা করেও কোন স্পন্সর পাই নি। তাই নামমাত্র টোকেন মানি দিয়ে কুস্তিখেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন কুস্তি ফেডারেশন নাম দিয়ে আমাদেরকে বাঁধা দিয়ে খেলা বন্ধের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
ভাটিবাংলা কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি দাবিদার নূরুল হক আফিন্দি এই প্রসঙ্গে বললেন, কুস্তি প্রতিযোগিতায় আমাদের দ্বিমত নেই। এই খেলাটি আঞ্চলিক খেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে আমরা খুশি হব। কিন্তু টিকেট দিয়ে খেলা দেখা নিয়ে আমাদের অনেকের ভিন্নমত রয়েছে। অনেক কুস্তিগীর আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন, এই আয়োজন যাতে উন্মুক্ত করা হয়। আমরা উদ্যোক্তাদের এই বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের কথা না শুনে কুস্তি একাডেমি নামে আরেকটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছেন। এজন্য আমরা আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে টুকের বাজারে সভা আহ্বান করেছি। এই সভায় ৫৫ টি কুস্তি টিমের মধ্যে ৫০ টি উপস্থিত থাকবে।
সুনামগঞ্জ কুস্তি একাডেমির সভাপতি ও মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুল হক বলেন, আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। জনপ্রিয় এই উৎসবটি জাতীয়ভাবে প্রচারে নিয়ে আসা উচিত। আমরা কিছু লিখিত প্রস্তাবনাও দিয়েছি। একজন ব্যক্তির হুমকি ধমকিতে খেলার আয়োজন ভেস্তে যাবে তা হতে পারে না।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বললেন, সরকারের একজন উপসচিব কেন খেলায় বাধা দিচ্ছেন বুঝি না। তিনি খেলাটি যাতে না হয় টিকেট বাতিলের কথা বলে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। সেটি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও করেছেন। আমরা কুস্তিকে আরো বড়ো পরিসরে নিয়ে আসতে চাই। আগামীতে প্রতিটি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগেও কুস্তি উৎসব হবে। এভাবে বাধা পেলে তো বড়ো পরিসরে বা জাতীয়ভাবে কুস্তিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নুরুল্লা গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ শাহানুর আলম বললেন, কুস্তি খেলা আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। টিকেটে কেটে এই খেলা হতে পারে না। এ কারণে আমি বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, কুস্তিখেলাটি এই অঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার জনপ্রিয় খেলা। এটিকে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে বড়ো পরিসরে নিয়ে আসতে ও জাতীয়ভাবে প্রচারের নিয়ে আসতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন উপসিচব শুনেছি বিভাগীয় কমিশনার স্যারের কাছে এই বিষয়ে আবেদন করেছেন। সকলের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খেলাটি হোক আমরা চাই। নামে মাত্র টিকেট দিয়ে, কিছু টাকা প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়া হবে। টিকেট ২০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। সকলকে এই বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন সাংবাদিকদের বললেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তার একটি বডিও আছে। তারা আঞ্চলিক এই জনপ্রিয় খেলাটিকে স্টেডিয়ামে আয়োজনের মাধ্যমে বড়ো পরিসরে বা জাতীয়ভাবে প্রচারণার জন্য নিয়ে আসতে পারে। আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে কুস্তি উৎসব সুন্দরভাবে আয়োজন করতে বলে দেব।