দুইপক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের

দিরাই সংবাদদাতা
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। রোববার সুনামগঞ্জ দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন মোশাররফ মিয়ার পক্ষ।
সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী ভট্টাচার্য এর আদালতে দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মশাহিদ মিয়ার ছেলে যুথিমা মিয়া এই মামলা দায়ের করেন। যুথিমা মিয়া দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়ার সমর্থক ও আওয়ামীলীগ কমী।
মামলায় দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে প্রথম আসামী করা হয়েছে।
অন্যান্যরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব উদ্দিন, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিৎ রায়সহ ৭৭ জন।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এমরান হোসেন খান বলেন, আদালত মামলাটি এফআইআর গণ্যে করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পহেলা ডিসেম্বরের মধ্যে এফআইআর সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী অ্যাড. রতন জানান, রোববার সকালে আদালত মামলাটি এফআইআর গণ্যে আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামীরা দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সম্মেলনে মিছিল নিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসার সময় আসামীরা সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়ার সমর্থকদের প্রতি ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে এবং চেয়ার সহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে একই ঘটনায় সুনামগঞ্জ দ্রুত বিচার আদালতে আরেকটি মামলা হয়েছে। দিরাই উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কলিম উদ্দিন বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়া সহ ৮১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দলবদ্ধ হয়ে শক্তির মহরা প্রদর্শন করে মঞ্চে উপবিষ্ট নেতাদের উপর হামলা করে। এলোপাথারী ইট, পাটকেল, পাথর দিয়ে ঢিল মারে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় শনিবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে দিরাই থানা পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দিরাই উপজেলার তাড়ল গ্রামের আব্দুল মালিক চৌধুরীর ছেলে নুরে আলম চৌধুরী (৫৫), চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুল আলেকের ছেলে রহমত আলী (৩৮), ঘাগটিয়া গ্রামের আপ্তাব আলীর ছেলে রায়হান মিয়া (২১) চান্দপুর গ্রামের মৃত গৌরাঙ্গ দাসের ছেলে সঞ্জু দাস (৩৭)। গ্রেফপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তপন।
প্রসঙ্গত, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন বিএডিসি মাঠের উত্তর গেট দিয়ে সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়ার নেতৃত্বে তার সমর্থকদের মিছিল ঢুকে। মিছিলটি মঞ্চের কাছাকাছি আসতে থাকলে মঞ্চের আশপাশে থাকা নেতা কর্মীরা এসময় মিছিলকারীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষে ধাক্কাধাক্কি লাগে। চেয়ার ছুড়াছুড়ি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। মঞ্চ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে একপক্ষ। এসময় মঞ্চে থাকা নেতৃবৃন্দ চেয়ার মাথায় ওঠিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। আধাঘণ্টারও বেশি সময় সংঘর্ষ চলাকালে আহত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবির রুমেন ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান সেন্টুসহ কমপক্ষে ২০ জন নেতা কর্মী।