দুই ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শান্ত

বিজয় রায়, ছাতক
পাথরবাহী নৌকা আটকের ঘটনা নিয়ে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে প্রাথমিকভাবে অবসান ঘটেছে। ছাতক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারী মুঠোফোনে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল লাইছের সাথে আলোচনা করে সৃষ্ট ঘটনার অবসান করেন।
গত কয়েকদিন ধরে পাথরবাহী নৌকা আটকে রাখার পরস্পর বিরোধি অভিযোগ তুলে উভয় উপজেলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছিল ক্ষোভ ও উত্তেজনা। ছাতক পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত দু’দিনে ছাতকের ৪৯টি পাথরবাহী নৌকা আটক করেন কোম্পানীগঞ্জের কতিপয় ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় ছাতকের পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে পুরাতন কাস্টম রোডে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সর্বস্তরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অপরদিকে শনিবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জে স্থাপিত ছাতকের ব্যবসায়ীদের ৭-৮টি ক্রাসার মিলে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন ছাতকের ব্যবসায়ীরা। ক্রাসার মিলে হামলার খবর ছাতকের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল মিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স এন্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারী সৈয়দ তৌফিক আহমদ ইকবাল, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ সভাপতি অদুদ আলম চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক সামছু মিয়া, ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমদ, আশিদ আলীসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারীর সাথে দেখা করে সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি কোম্পানীগঞ্জ ইউএনওর সাথে মুঠোফোনে আলোচনা করে এর সমাধান দেন।
এর আগে আটককৃত সকল নৌকা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ঈদুল আযহার পরে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।
ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স এন্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী জানান, ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৮ বছর আগে করা ব্যবসায়ী ডিডের বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওকে অবহিত না করে এ বিষয়ে তাকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন সেখানের ব্যবসায়ীরা। ২০১০ সালে করা ডিডের বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জের বর্তমান ইউএনওর জানার কথা নয়।
উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে ছাতকের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ পাথর, বালু ও চুনাপাথর ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন যুগ-যুগ ধরে। ক্রমান্বয়ে পাথর ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী পথে বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেডে পাথর-বালু লোডিং-আন লোডিংযের স্থান নিয়ে পরবর্তিতে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দেয় মতবিরোধ। বিষয়টি চরম আকার ধারণ করলে ব্যবসায়ী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে উভয় উপজেলার ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট সিলেট সার্কিট হাউজে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে একটি লিখিত ব্যবসায়ী ডিড পাশ করা হয়।
এসময় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, কোম্পনীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার, ছাতক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাবেল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের তৎকালীন ইউএনও, উভয় থানার অফিসার্স ইনচার্জ, মোল্লারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মখন মিয়া, ব্যবসায়ী আবরু মিয়া তালুকদার, ছানাউর রহমান ছানা, হেলাল উদ্দিন, সামছুদ্দোহা, সাবেক চেয়ারম্যান কালা মিয়া, আব্দুন নূরসহ লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত উভয় পক্ষের অভিযোগ প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিডে উল্লেখ করা হয়, ৩ হাজার ঘনফুটের অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন নৌকা ছাতকের চেলা নদীর গোয়ালগাঁও পয়েন্ট অতিক্রম না করে লোডিং-আন লোডিং করতে হবে। এ ব্যাপারে একটি টেকনিক্যাল কমিটিও তখন গঠন করা হয়।
সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ডিডে উল্লেখিত স্থান অতিক্রম করে নৌ-পথে পাথর-বালু লোডিং-আন লোডিং করে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে যাচ্ছে বলে পাথর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। ফলে গত ক’মাস ধরে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আবারো মতবিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।