দুই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিলেন দুই লন্ডন প্রবাসী

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে দরিদ্র দুই মেধাবী শিক্ষা সংগ্রামীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়ালেখার ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিয়েছেন জগন্নাথপুরের দুই লন্ডন প্রবাসী। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী তাহরিমা আক্তার রুমির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচের জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেয়া হয়।
উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ‘আছলম মিয়া- খায়রুল নেছা শিক্ষা ট্রাস্টের’ প্রতিষ্ঠাতা লন্ডন প্রবাসী মোহাম্মদ শিপার মিয়ার পক্ষে তার ছোট ভাই শিপন মিয়া এই টাকা হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায়, যুগ্ম সম্পাদক অমিত দেব, কালের কণ্ঠ জগন্নাথপুর উপজেলা প্রতিনিধি আলী আহমদ, শিক্ষার্থীর চাচা মিজানুর রহমান, শিক্ষক সাইফুল ইলাম রিপন, ফজলে রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ভবানীপুর গ্রামের দরিদ্র আজমান আলীর ছেলে ইমাদ উদ্দিদের ভর্তি ও পড়াশুনার ব্যয়ভাবের দায়িত্ব নেন লন্ডন প্রবাসী জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবপুর এলাকার বাসিন্দা রবিউল আলম।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী রবিউল আলম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে জানান, অর্থের জন্য ইমাদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাবে এটা ভাবতে পারছিলাম না। তাই ইমদাদের পড়াশুনার ব্যয়ভার বহন করব, যতদিন সে নিজে লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না ততদিন আমি তার পাশে থাকব।
প্রসঙ্গত, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ঘীপুরা গ্রামের চা দোকানদার আব্দুল কালাম আজাদের মেয়ে তাহরিমা আক্তার রুমি উপজেলার শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৭৫ পেয়ে উর্ত্তীণ হয়। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সে উত্তীর্ণ হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী ইমাদ উদ্দিন ২০০৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জগন্নাথপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উর্ত্তিণ হয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক শাখা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, তাহরিমা ও ইমাদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসা প্রবাসীদের সহায়তা আগামীর সম্ভাবনা তৈরী করবে।