দুই শিশু সন্তানের হৃদযন্ত্রে ছিদ্র, অসহায় চা বিক্রতা রহিম

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের টাউনহল মার্কেটে চা বিক্রি করে সংসার চালান আবদুর রহিম (৬২)। পাঁচজনের পরিবার নিয়ে এমনিতেই বড় দুঃখ—কষ্টে দিনানিপাত করেন। এরমধ্যে দুই শিশু সন্তানের হৃদযন্ত্রে ধরা পড়েছে ছিদ্র। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন অস্ত্রপচার করতে হবে। এখন কিভাবে টাকা জোগার করবেন, সন্তানদের অস্ত্রোপচার হবে, এই চিন্তায় অস্থির দরিদ্র আবদুর রহিম। আবদুর রহিমের বাড়ি সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকায়। এক সময় পরিবারে সচ্চলতা ছিল। ব্যবসায় লোকসান দিয়ে এখন পথে চা বিক্রি করেন রহিম। ঘরে স্ত্রী আর তিন সন্তান আছে। বড় ছেলে তালহা (১১) তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। দ্বিতীয় ছেলে উসামা (৭) পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। আরেক মেয়ে রুহির বয়স এক বছর। উসামা ও রুহির জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রে ছিদ্র।
রহিম জানান, বছরখানে আগে উসামার প্রচন্ড জ্বর আর বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসদের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা—নিরীক্ষা করে জানান, তার হৃদরোগের কথা। আর ছয়মাস আগে রুহির একইভাবে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তারও একই সমস্যা ধরা পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে ছেলেমেয়ের উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারেন নি তিনি। এখন তাদের শ্বাসকষ্ট, সর্দি—জ্বর হয়। বুকে ব্যথায় কান্নাকাটি করে দুজনেই।
আবদুর রহিম আরও জানান, ছেলে মেয়ের এই দুরাবস্থা দেখে গতমাসে প্রতিবেশিরা পরামর্শ দেন সিলেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর তিনি মানুষের সাহায্য নিয়ে সিলেটের সম্মিলিত মিলিটারি হসপিটালে গিয়ে চিকিৎসক মেজর মো. নুরনবী খোন্দকারকে দেখান। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা—নিরীক্ষার পর পরামর্শ দেন ঢাকা যাওয়ার। অসহায় রহিমকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য কিছু অর্থও দেন তিনি। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গিয়ে তিনি চিকিৎসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) নুরুন্নাহার ফাতেমাকে দেখান। তিনি উসামা ও রুহিকে দেখে পরামর্শ দেন অস্ত্রোপচারের। ছেলেমেয়ের চিকিৎসা—সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র দেখাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দরিদ্র চা—বিক্রেতা আবদুর রহিম। ছেলেমেয়ের চিকৎসা করাতে গিয়ে এমনিতেই অনেক টাকা ঋণ হয়ে পড়েছেন। এখন অপারেশন করাতে আরও আট লাখ টাকার মতো লাগবে। এত টাকা কোথায় পাবেন, কার কাছে যাবেন—এই চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।
রহিম বললেন ‘অবুঝ দুইটা সন্তানের কান্না সইতে পারি না। তাদের কষ্ট দেখে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আমার দুই সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য চাই।’