দুধের হাট জমজমাট

আকরাম উদ্দিন
জেলার দুধের হাটগুলোতে ক্রেতা বেড়েছে। দামও বেড়েছে দুধের। রমজানে রোজাদারদের মধ্যে দেশীয় খাটি দুধের চাহিদা বাড়ায় গ্রাম্য বাজারে দুধের দাম বেড়েছে। সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবেড়, শক্তিয়ারখলা, কারেন্টের বাজার, চিনাকান্দি বাজার, ধনপুর বাজার, বসন্তপুর বাজার, মথুরকান্দি বাজার ও পলাশ বাজারে দুধের হাটে রীতিমত ক্রেতার ভীড় থাকে। এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার টেবলাই বাজার, বোগলা বাজার ও নরসিংপুর বাজারে দুধের হাট রমজান মাসে জমে ওঠেছে। রমজানের আগে দুধের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা লিটার। রমজানে দাম বেড়ে ৮০ টাকা থেকে ১ ’শ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, বেশি দুধের আশায় উন্নত জাতের বীজ দিয়ে গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করানোও বেড়েছে গত কয়েক বছরে।
সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দুধের হাট বসে। হাটে দুধের লিটার মূল্য কোনোদিন ১শ’ টাকা, ৮০ টাকা এবং ৭০ টাকা বিক্রি হয়। আবার মাঝে-মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ ও ৬০ টাকা লিটারও বিক্রি করা হয়। তবে রমজান মাসের শুরু থেকেই দুধ চড়ামূল্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সর্বনি¤œ ৭০ টাকা লিটার থেকে সর্বোচ্চ ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবেড় বাজারে প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুধের হাট বসে। গত শনিবারও ছিল দুধের হাটে চড়ামূল্য। প্রতি লিটার ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা হিসাবে বিক্রি হয়েছে।
একই উপজেলার পলাশ বাজারেও দুধের হাট বসে। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে দুধের হাটে বেচাকেনা। শনিবারও ছিল দুধের হাটে চড়ামূল্য। প্রতি লিটার ৭০ থেকে ৯০ টাকা হিসাবে বিক্রি হয়েছে।
উপজেলার শক্তিয়ারখলা, কারেন্টের বাজার, চিনাকান্দি বাজার, ধনপুর বাজার, বসন্তপুর বাজার ও মথুরকান্দি বাজারে প্রতিদিন বিকালে দুধের হাট বসে। বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বেচাকেনা হয় দুধ। দুধের হাটে প্রতি লিটারের দাম ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা। রমজান মাস, ঈদোৎসব ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া এসব এলাকায় দুধের মূল্য কিছুটা কম থাকে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার টেবলাই বাজার, বোগলা বাজার ও নরসিংপুর বাজারে প্রতিদিন দুধের হাট বসে। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে দুধের হাটে বেচাকেনা। মূল্য সর্বনি¤œ ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা প্রতি লিটার।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজারে শনিবার চালবন্দ গ্রামের পারভেজ মিয়া, মাঝেরটেক গ্রামের আশিক মিয়া, পশ্চিম মাঝেরটেক গ্রামের বাদশাহ সেকান্দর, দীঘিরপাড় গ্রামের জালাল উদ্দিন, রতারগাঁও গ্রামের শাম্মী আক্তার দুধ নিয়ে বসেছিলেন। তবে বেশিরভাগ দুধ বিক্রেতা ক্ষুদে শিক্ষার্থী। তারা নিজেদের গাভীর দুধ হাটে বিক্রি করতে আসেন। তাদের দাবি দুধ একেবারেই খাটি।
পলাশ বাজারের নিয়মিত দুধ বিক্রেতা সড়কপাড়ের হাবিবুর রহমান, ইসলামপুর গ্রামের সুরুজ আলী, তালেরতল গ্রামের জুয়েল মিয়া, মিরাজুল ইসলাম, মো. ফয়জুর হক, পুকুরপাড় গ্রামের মইন আলম, অলিমা বেগম, সুমা আক্তার, রসুলপুরের সাবিনা আক্তার, উত্তরপাড়ার তাহের আলী, কাচিরগাতির দ্বীন ইসলাম, পলাশের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্। এই বাজারেও অনেক ক্ষুদে শিক্ষার্থী দুধ নিয়ে বসেন।
দুধের হাটে আসা ক্রেতা আব্দুল হামিদ বলেন, ‘খাটি দুধ পাওয়া বড় দায়। যারা দুধ বিক্রি করে, তারাও সামান্য ছয় নয় করে।’ আব্দুল হামিদ জানান, বেশি দুধ পাবার আশায় গ্রামাঞ্চলে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করানো হচ্ছে। খামারীরা মনে করছেন কৃত্রিম প্রজননে হওয়া উন্নত জাতের বাচ্চা যখন মা হবে তখন বেশি দুধ দেবে।
ক্রেতা আব্দুল জলিল বলেন,‘বেশি ক্রেতা দেখলে তারাও দাম বাড়ায়। ঈদোৎসব, রমজান, শুক্রবার বা অন্যান্য সরকারি বন্ধের দিনে দুধের দাম বেশি হয়। দুধ আসল-নকল বুঝা কঠিন। নিজের চোখে সরাসরি দেখিনি, তবুও কিনি। মানুষে কয় খাটি।’
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জালাল হোসেন বলেন,‘গত বছরের (২০১৬-১৭) তথ্য অনুযায়ী জেলায় দুগ্ধ খামারী ২৭৫ জন। এ বছর আরও বেড়েছে। শহরেও কয়েকটি দুগ্ধ খামার হয়েছে। দুধের চাহিদাও বেড়েছে। মানুষ খামার থেকেই দুধ কিনে নেয়। প্রাণি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা গাভীকে কী করলে, কী খাওয়ালে দুধ বেশি দেবে, এসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন। হাউস বা থাকার ঘর কীভাবে হবে সেটি বলে দেওয়া হচ্ছে। ৪০ ইউনিয়নে কৃত্রিম প্রজননকারী আছে, তারা খামারীদের কৃত্রিম প্রজনন শিখিয়ে দিচ্ছে। গাভী গরম হলে ৩০ টাকা মূল্যের বীজ দিয়ে কৃত্রিম প্রজনন করানো হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজননের বাছুর যখন মা হবে তখন দুধ বেশি দেবে। জেলায় এ বছর ৫৬০০ গাভীকে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে কৃত্রিম প্রজনন করানো হয়েছে। যা অন্য যেকোন বছরের তুলনায় বেশি।’