দুর্গত মানুষের পাশে ওসি খালেদ

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
দুর্গত মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদ আহমেদ চৌধুরী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন মুহুর্তে মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছেন মানুষজনকে।
ওসি মো. খালেদ চৌধুরী শান্তিগঞ্জ থানায় যোগদান করেন গত ১৯ এপ্রিল। বন্যা পরিস্থিতিতে ১২ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার তুলে দিয়েছেন ৩ হাজার ২০০ মানুষের মাঝে। আর চিড়া, মুড়ি, গুড় ও চাল, ডাল, তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়েছেন ২ হাজার ৩৫০ পরিবারকে।
শনিবার (১৮ জুন) থেকেই শুরু হয় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। সংকটকালীন মুহুর্তে সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশের পক্ষ থেকে নিজে রান্না করে খাবার বিতরণ করেন শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) মো. খালেদ আহমেদ চৌধুরী। নৌকা নিয়ে উপজেলার দুর্গম গ্রামগুলোতে আটকে পড়া ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ডেমন- চিড়া, মুড়ি, গুড় বিতরণ করেন। গত কয়েকদিন ধরে বিতরণ করছেন চাল, ডাল, তেল, লবন, খেজুর, সাবান, গুড়া দুধ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী।
গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে সিলেট-সুনামগঞ্জ জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। অনেকের ঘর-বাড়ি, গবাদিপশু বন্যার পানিতে ভেসে যায়। সেই সাথে গোলার ধান ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৫৫টি গ্রামই একের পর এক তলিয়ে যেতে শুরু করে। দুর্গতদের জন্য উপজেলায় ১১৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। সেই সাথে অনেকের দু’তলা ও উঁচু দালান কোঠায়ও মানুষ আশ্রয় নিতে থাকেন।
আস্তমা গ্রামের আতাউর রহমান, হাবিবুর রহমান, বজলু মিয়া জানান, ছেলে-মেয়ে নিয়ে বন্যার কারণে কয়েকদিন ধরে ক্ষুধার্থ ছিলাম। আজ শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে যে ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছি ছেলে মেয়ে নিয়ে কয়েকদিন খেতে পারবো।
দরগাপাশা এলাকার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী জানান, ভয়াবহ বন্যায় আমার বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়, তাৎক্ষণিক আমারা গ্রামবাসি স্কুলের দু’তলায় আশ্রয় নেই। আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই আমরা চরম ভাবে খাদ্য সংকটে পড়ে ছিলাম। কিন্তু শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ আমাদেরকে পানিবন্দি অবস্থায় আশ্রয় কেন্দ্রে রান্না করা খাবার সরবরাহ করেছেন। সেই সাথে চিড়া, মুড়ি, গুড় ও চাল, ডাল, তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও আমাদেরকে দিয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, আমি যেনে বুঝেই পুলিশে চাকরী নিয়েছি। প্রকৃত অর্থেই পুলিশ জনগণের বন্ধু, বিপদে-আপদে দেশ ও মানুষের সেবাই পুলিশের কাজ। আমি সেই কাজটিই করছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ জানান, আমার অত্যন্তই ভালো লাগছে যে, এই দুর্যোগকালীন মুহুর্তে মানুষের জানমাল রক্ষার পাশাপাশি শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি প্রতিনিয়তই দেখছি থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. খালেদ আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে উপজেলার কোন না কোন গ্রামেই তারা খাদ্য সহায়তা করছেন। সেই কারণে উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে আমি পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।