দুর্গাবাড়ি-পূজার সম্বল নিষ্ঠা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রায় ৪০ বছর ধরে হয়ে আসছে পৌর শহরের শ্রীশ্রী দুর্গাবাড়ির পূজা। থাকে না কোন জাঁকজমক। পূজায় দেখা যায় না বাহারী আলোর রোশনাই। পূজার একটাই সম্বল, নিষ্ঠা। আর এই নিষ্ঠার ওপর ভর করেই আজও অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে দুর্গাবাড়িতে মায়ের পূজা। পুরোনো রীতি মেনেই পূজা হয় এখানে। পূজার কয়েকটি দিন সম্প্রীতির মিলনস্থানে পরিণত হয় মন্দিরটি। প্রচুর মানুষ ভিড় জমান দুর্গাবাড়িতে।
শ্রীশ্রী দুর্গাবাড়িতে মায়ের পূজা শুরু হয় ১৯৮০ সালে। দুর্গাবাড়ি পূজা কমিটির প্রথম সভাপতি ছিলেন ডা: ধীরেন্দ্র দেব চৌধুরী। হোসেন বখত চত্বরের পাশে বর্তমান ডায়াবেটিক হাসপাতালের পাশে এই মন্দিরের অবস্থান। তখনকার সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মেজর ইকবাল এই জায়গার বন্দোবস্ত করে দিয়েছেলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এর দু’এক বছর পর আবারও স্থান বদল। ১৯৮২ দিকে পূজা শুরু হয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন বাসায়। ১৯৮৪-১৯৮৫ দিকে পৌরসভার মেয়র মনোয়ার বখত নেক কেন্দ্রীয় দুর্গাবাড়ির জন্য বর্তমান স্থান নির্দিষ্ট করে দেন। সেই সময় স্থানটি খাল ছিল। খাল ভরাটের জন্য সেই সময়ের জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ, সংসদ সদস্য অ্যাড. ফজলুল হক আছপিয়া ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার সহায়তায় খাল ভরাট করা হয়। এরপর ছাপ্টা ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু খালরকম ভূমি হওয়ার কারণে ঘরটি একবছরও টেকেনি।
২০০৬ সালে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র দেওয়ান মনিমুল মউজদীন পৌরসভার অর্থায়নে দুর্গা মন্দির নির্মাণ করে দেন। আমেরিকা প্রবাসী ডি. অসিত চৌধুরী তৈরি করে দেন শিব মন্দির। প্রয়াত পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুল এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ মন্দিরের চারদিকের দেয়াল নির্মাণ করে দেন।
সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি পূজা কমিটির সভাপতি বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সুবিমল চক্রবর্তী বলেন, আমরা পূজায় একশত ভাগ সাত্ত্বিকতা অবলম্বন করি। সনাতন রীতি অনুযায়ী, নিয়ম ও নিষ্ঠা সহাকারে মায়ের অর্চনা করা হয়। চাকচিক্য করা হয় না। পূজা উপলক্ষে মহানবমীর রাতে সংকীর্তন, অষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হয় ভক্তিমলূক সংগীতানুষ্ঠান।