‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে’

সজীব দে
উন্নয়ন করতে হলে স্থানীয়দের উন্নতির পথ করে দিতে হবে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষকের উন্নয়ন করতে হবে। তাকে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোন সময়ই ফড়িয়া অথবা মিলারদের ক্ষতি হয় না। কিন্তু উৎপাদনকারী কৃষক কেন উৎপাদন খরচ তুলতে পারে না? কৃষকের উন্নয়ন না হলে জেলার উন্নয়ন হবে না। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বা স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১০ টায় শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘জনপদের উন্নয়নে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গোলটেবিল আলোচনার শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিক কামরুজ্জামান চৌধুরী, আজিজুর ইসলাম চৌধুরী, চাঁন মিয়া, টিপু সুলতান, মহি উদ্দিন মহিম’এর আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিটি দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও চ্যানেল২৪’এর জেলা প্রতিনিধি এ আর জুয়েল।
গোলটেবিল আলোচনার শুরুতে প্রারম্ভিক আলোচনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ কান্তি দে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন ও সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র আইনজীবী ও কলামিষ্ট হোসেন তওফিক চৌধুরী।
আলোচনায় অংশ নেন কবি ইকবাল কাগজী, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক’এর সম্পাদক প্রকাশক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, ডিবিসির নিউজ প্রেজেন্টার রেদওয়ান
আহমদ, দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জের সম্পাদক ও প্রকাশক, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার আবেদ মাহমুদ চৌধুরী, কালের কণ্ঠ’এর জেলা প্রতিনিধি সামস শামীম, দৈনিক জনকন্ঠ ও মাছরাঙ্গা টিভির জেলা প্রতিনিধি এমরানুল হক চৌধুরী, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কুলেন্দু শেখর দাস, দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা’র সম্পাদক ও প্রকাশক, এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি মাহতাব উদ্দিন তালুকদার, সুনামগঞ্জের সময়ের সম্পাদক ও প্রকাশক সেলিম আহমদ তালুকদার, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রী শেখর ভদ্র, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি ও দৈনিক ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন, দৈনিক ভোরের ডাকের জেলা প্রতিনিধি এমএ কাসেম, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ ও সোহেল আহমদ, দৈনিক সুনামকন্ঠের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি হোসাইন আহমদ, দৈনিক জালালাবাদের জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি মো. নুরুল হক, খোলা কাগজের জেলা প্রতিনিধি শহীদনুর আহমেদ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমদ, জামালগঞ্জ অফিস প্রধান আকবর হোসেন, দৈনিক ইনকিলাবের জেলা প্রতিনিধি মো. হাসান চৌধুরী, একাত্তরের কথার জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী আহমদ মুজতবা রাজী, একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুস সালাম, বাংলা নিউজ ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি মো. আশিকুর রহমান পীর, দৈনিক সুনামগঞ্জের সময়ের স্টাফ রিপোর্টার রুজেল আহমদ, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের স্টাফ রিপোর্টার আসাদ মনি, আল আমিন, আজকের সংবাদের জেলা প্রতিনিধি মো. দিলাল আহমদ, জয়যাত্রা টিভির জেলা প্রতিনিধি কর্ণ বাবু দাস, জাগো সিলেটের প্রতিনিধি লিপসন আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরা পার্সন মো. তরিকুল ইসলাম, দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথার স্টাফ রিপোর্টার মোমেন মুন্না, বিজয়ের কণ্ঠ’র জেলা প্রতিনিধি মো. আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, যদিও সুনামগঞ্জ পিছিয়ে পড়া জনপদ, তবুও আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। বালু, পাথর, মৎস্য রপ্তানি করেও আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। চারাগাঁও, বাগলী এবং ডলুরা শুল্ক স্টেশনের উন্নয়ন করতে হবে। এখান থেকে সরকার প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কিন্তু সীমান্ত সড়ক এবং শুল্ক স্টেশনের উন্নয়ন হচ্ছে না কেন? হাওরে স্থায়ী বাঁধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগে পিছিয়ে আছি। স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। অনেক স্থানে ভবন আছে, ডাক্তার নেই। মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই। এ অবস্থা চলতে পারে না। জেলায় স্বাক্ষরতার হার মাত্র ৩৭ শতাংশ। শিক্ষার উন্নয়নের পথে সকল বাধা দূর করতে হবে। বালি, পাথর মহালে পরিবেশ বিধ্বংসী মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র নষ্ট করা হচ্ছে। অনেক সম্ভাবনাকে নষ্ট করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, জেলা ভিত্তিক উন্নয়ন বাজেট করতে হবে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেলা থেকে সুনামগঞ্জ সমৃদ্ধ হওয়ার পরও আমরা পিছিয়ে রয়েছি। উন্নয়নের প্রশ্নে জেলাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এজন্য সমন্বয় দরকার। উন্নয়ন কর্মকা-গুলোকে জেলাব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হলে উন্নয়ন হবেই। সুনামগঞ্জের স্বার্থের আলোকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ করতে হবে।
নিজেদের দ্বারাই গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন বেশি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, যেনো আমরাই আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি। সমস্যা থাকবে, কিন্তু ঐক্য বজায় রাখতে হবে। প্রেসক্লাবকে কার্যকর করতে হবে। প্রেসক্লাবের অনৈক্যের কারণেই সাংবাদিকদের ছোট ছোট সংগঠন হচ্ছে, তাতে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। গণমাধ্যমের সাথে জড়িত প্রকৃত সাংবাদিকদের এজন্য নেতৃত্ব দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। কিছুদিন আগে জলাবদ্ধতায় সমগ্র শহরে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। পর্যটন বিকাশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রিপোর্ট করতে হবে। জেলা শহরের উন্নয়নে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা যিনি করছেন, তাঁর হাতে (পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের হাতে) সকলে মিলে শহর উন্নয়ন পরিকল্পনার ভার দিতে হবে। জেলা সদরের সাথে সব উপজেলাকে সংযুক্ত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম এখনও মানুষের আস্থার জায়গা। আমাদের সাধারণ মানুষের প্রত্যশা পূরণ করতে হবে। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকা দক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা অর্জন করেছে। কিছু ত্রুটি বিচ্যুত্তি আছে। এটা থাকতেই পারে। তবে পত্রিকাটি আমাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে চলছে। পত্রিকার সম্পাদকীয়, প্রতিবেদন অনেকে অনুসরণ করেন। খবর পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় বাঁশের বদলে সেতুতে রড দেয়া হয়েছে। জেলার উন্নয়নে পত্রিকাটি অবদান রাখছে। পাঠক প্রিয়তার দিকেও এগিয়ে রয়েছে। আমরা আশাকরি এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা বলেন, উপজেলার সাংবাদিকদের বিভিন্ন দক্ষতামূলক ট্রেনিংয়ের সাথে যুক্ত করতে হবে। এতে তাদের রিপোর্টিং উন্নত হবে।