দেখার হাওরের সেই ৬ প্রকল্প নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সেই ৬টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের খাগুরা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. মনির উদ্দিন বাদী হয়ে এই পিটিশন দাখিল করেন। ( রিট পিটিশন নাম্বার:৪১৪২/২০১৮)
পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মোহাম্মদ আতাউর রহমান গত ২৮ মার্চ একটি রুলনিশি জারি করেন।
রুলনিশিতে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুযায়ী বর্ষা শুরুর আগে ফসলরক্ষা জন্য বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা কেন দেয়া হইবে না এই মর্মে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বিবাদীদের প্রতি রুল নিশি জারি করা হয়।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাবিটা মনিটরিং সার্কেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পাউবোর পওর ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা উপ পরিচালক, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সদর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী, মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে। বিবাদীগণকে ২৮ মার্চ থেকে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে হাইকোর্টে দাখিল করা ওই পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক রুল নিশি জারির বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছেন বাদী মুক্তিযোদ্ধা মো. মনির উদ্দিন।
প্রসঙ্গত, বোরো ফসলরক্ষার নামে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরে ৬টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থ অপচয় ও লুটপাট করা হচ্ছে বলে আবারও অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এসব অভিযোগ করেছেন মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা কমরুছ আলী ও জলালপুরের বাসিন্দা মো. আজাদ মিয়া।
অভিযোগ করা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নির্বাচন ও অধিক টাকায় প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি টাকা অপচয় ও লুটপাট করা হচ্ছে।
দেখার হাওরের বোরো ফসলরক্ষার নামে ইউনিয়নের দরিয়াবাজ গ্রামের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত ৫ টি ও লালপুর গ্রামের কাছে আরও ১টিসহ মোট ৬টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওই ৬টি প্রকল্প নিয়ে দুদক দেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।