দেখার হাওরে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ- আদালতে মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরে বোরো ফসলরক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণে কোটি টাকা অপচয় করার অভিযোগে সুনামগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে এই পিটিশন মামলাটি দায়ের করেছেন সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলালপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে কৃষক মো. আজাদ মিয়া।
মামলায় আসামী করা হয়েছে, মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকি ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানকে।
আদালতে পিটিশন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী প্রদীপ কুমার নাগ। তিনি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে জানিয়েছেন, আদালত বাদীর পিটিশনটি গ্রহণ করেছেন এবং বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। তবে আদালত বৃহস্পতিবার কোন আদেশ দেননি।
আদালতে দায়ের করা পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, গত বোরো মওসুমে সদর উপজেলার দেখার হাওরের বোরো ফসল রক্ষার নামে মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকি ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান হাওরপাড়ের কৃষকদের সাথে আলোচনা না করে ৬টি উপ-প্রকল্প গ্রহণ করেন। ৬টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রতিটি প্রকল্প (হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ) মহাসিং নদীর পূর্বতীরে নির্মাণ করার কথা থাকলেও প্রত্যেকটি প্রকল্প নদীর ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক মৎস্য খামার স্থাপনের উদ্দেশ্যে মহাসিং নদীর তীর থেকে অনেক দূরে বাঁধ নির্মাণ করেন। যার কারণে দেখার হাওরের বোরো ফসল অরক্ষিত থাকবে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মানচিত্র অনুযায়ী দেখার হাওরের ভিতরে প্রবাহিত মহাসিং নদীর পূর্ব পাড় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাগলা ইউনিয়নের অন্তর্গত। মহাসিং নদীর পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ে বাঁধ থাকলেও ডুবন্ত বাঁধ মেরামতের কথা বলে নদীর তীরে কোন বাঁধের কাজ বা মেরামত না করেই সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এতে করে দেখার হাওরের বোরো ফসল অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। গত বোরো মওসুমে অকাল বন্যা না হওয়ায় অভিযুক্তগণ সরকারি প্রকল্পের টাকায় মৎস্য খামার নির্মাণ করে ফসলরক্ষা প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করার প্রয়াস করেছেন।
পিটিশন মামলার বাদী মো. আজাদ মিয়া বলেন,‘দেখার হাওরের ফসলরক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কোটি টাকার অপচয় করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ করে কোন ফল না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’
সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এক্ষেত্রে আমার কোন দায় নেই। আমাকে অহেতুক অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুুরুল হক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকি বলেন,‘হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় কৃষকরাই পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। বাঁধগুলো অপ্রয়োজনীয় নয়, প্রয়োজন ছিল তাই দেয়া হয়েছে। ’
প্রসঙ্গত, দেখার হাওরের অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘দেখার হাওরে বাঁধের ভেতরে বাঁধ, কোটি টাকা অপচয়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।