দেবে গেছে নজরখালী ক্লোজার- হুমকিতে হাওরের ৫ হাজার একর জমি

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরের টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালী ক্লোজারের উপর নির্মাণ করা ফসলরক্ষা বাঁধটি দেবে গিয়ে বেশ কয়েক স্থানে ফাটল ধরেছে।
এতে যে কোন সময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি ভেঙ্গে হাওরের ৫ হাজার একর জমির ধান পানির নীচে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন কৃষকরা।
টাঙ্গুয়া হাওরপাড় গোলাবাড়ি গ্রামের আবুল ইসলাম (৫০)জানান, প্রতি বছর এ বাঁধটি টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়। টাঙ্গুয়া হাওরের যে সমস্ত জলমহাল পারমিটে ইজারা দেয়া হয় ঐ সকল পারমিটের টাকা থেকে বাঁধে ব্যয় করা হয়। চলতি বছর এ বাঁধটিতে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় ১০ লক্ষ টাকা।
এ বিষয়ে টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলম বলেন,‘বিগত বছর হাওরের সকল ফসল ডুবির কারণে এ বছর বাঁধটি নির্মাণের জন্য টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ বাঁধটি নির্মাণের জন্য টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বাদল মিয়াকে প্রকল্প চেয়ারম্যান ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ওয়াহিদ মিয়াকে সেক্রেটারী করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে কাজটি উঠানোর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়।
নজরখালী বাঁধ এলাকার গোলাবাড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৫) বলেন,‘নজরখালি বাঁধের কাজটির গুণগতমান ভাল না হওয়ার কারণে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজের শুরুতেই আমরা বলেছি দুর্মুজ করে বাঁধে মাটি ফেলার জন্য। প্রকল্প কমিটির লোকজন আমাদের কোন কথাবার্তাই শুনেননি।’
তিনি আরো বলেন,‘বর্তমানে ধান কাটার পুরো মৌসুম। এ অবস্থায় হাওরপারের লোকজন তার নিজের ধান কাটবে না বাঁধের দিকে খেয়াল দিবে।
বাঁধ এলাকার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া বলেন,‘নজরখালী বাঁধটি টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটি করে থাকে। এলাকার লোকজন আমাকে জানিয়েছে বাঁধটি দেবে ফাটল ধরেছে।’
তিনি আরো জানান,টাঙ্গুয়া হাওর নজরখালি বাঁধের ভিতরের এরালিয়া কানা, গনিয়াকুরি, লামারগুল, টানের গুল, নান্দিয়া, মাজেরগুল, টুঙ্গামারা, সুনাডুবি, গলগলিয়া, শামসাগর হাওর মিলে প্রায় ৫ হাজার একর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন,‘ টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন এ বাঁধটি বিলের পারমিটের টাকা দিয়ে প্রতি বছরই নির্মাণ করে থাকেন। কাজটি ভালভাবে না করার কারণেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালি ক্লোজার বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নয়। বাঁধটি টাঙ্গুয়া হাওর সহব্যবস্থাপনা কমিটি সম্পন্ন করেছে।’