দেশে দেশে বর্ষবরণের নানা রীতি

সু.খবর ডেস্ক
নতুন বছর মানে নতুন উৎসাহ, নতুন স্বপ্ন। তাই একেক দেশে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে একেক পদ্ধতি চালু রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বর্ষবরণ সে সব দেশের মানুষ নিজেদের সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশে কীভাবে স্বাগত জানানো হয় বছরের নতুন দিনটিকে।
গ্রীস : গ্রীকরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ঘরের দরজায় থোকা থোকা রসুন ঝুলিয়ে রাখে। এর অর্থ নতুন বছরে সমৃদ্ধি কামনা। নতুন বছরের ঘরে প্রবেশের আগে ডালিম ভাঙারও রীতি আছে এই দেশে। কারণ গ্রীকরা বিশ্বাস করে যত বেশি ডালিমের বীজ মেঝেতে পড়বে ততই তাদের সৌভাগ্য বাড়বে।
ইস্টোনিয়া : এই দেশের রীতি অনুযায়ী বছরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় যদি ৭ অথবা ১২ জন একসঙ্গে খাবার খায় তাহলে সারা বছর তাদের মধ্যে শক্তি বজায় থাকবে এবং পরবর্তী বছর খাবারের কোনও অভাব থাকবে না।
বেলজিয়াম : বছরের প্রথম দিন এই দেশের শিশুরা সাজানো কাগজ কিনে শুভেচ্ছা বানী লেখে পিতামাতা ও ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে। চিঠিগুলো পরে তাদের সামনে পড়া হয়।
স্পেন : এই দেশে নতুন বছর শুরুর প্রহরে একসঙ্গে ১২ টি আঙুর খাওয়াকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়।
আর্জেন্টিনা : নতুন বছর শুরুর প্রহরে শিমের বীজ খাওয়াকে আর্জেন্টিনায় ক্যারিয়ারের সফলতার উৎস ভাবা হয়।
ইটালী : দক্ষিন-পূর্ব ইটালীর অনেক জায়গায় পুরনো জিনিসপত্র জানালা দিয়ে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। এর মানে হচ্ছে নিজেদের দুঃখ-কষ্ট দূরে ঠেলে আগামীকে স্বাগত জানানোর প্রকাশ। এছাড়া অন্য এলাকায় বছরের প্রথম প্রহরে নাচ-গান, উৎসবের মধ্য দিয়েই নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
ফিলিপাইন : ১২ টি গোলাকার ফল এবং ১২ ধরনের খাবার খাবার টেবিলে সাজানো হয় বছরের প্রথম প্রহরে। শিশুদের এই সময় লাফাতে বলা হয় লম্বা হওয়ার জন্য। ঠিক ১২ টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের দরজা খুলে দেওয়া হয় সৌভাগ্যকে ঘরে টানতে।
রোমানিয়া : নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রোমানিয়ায় মাস্ক নাচের প্রচলন রয়েছে। নববর্ষের দিন ভাল্লুকের পোশাক পড়ে রাস্তায় আনন্দ উৎসব করা এই দেশের রীতি। এছাড়া এই দেশের কোথাও কোথাও নদীতে কয়েন ছুড়ে সারা বছর সৌভাগ্য বয়ে আনার রীতিও চালু আছে।
ইকুয়েডর : এই দেশে নতুন বছর বরণ করে নেওয়ার অদ্ভুদ এক রীতি চালু রয়েছে। তারা ওই দেশের রাজনীতিবিদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা গত বছর তাদের দুর্ভাগ্যের কারণ ছিলেন তাদের কুশপুত্তলিকা তৈরি করেন। এরপর সেই কুশপুত্তলিকাগুলো রাস্তায় পুড়িয়ে নিজেদের দুর্ভাগ্যকেই পুড়িয়ে ফেলেছেন বলে মনে করেন।
সূত্র : সমকাল