দোয়ারবাজারে জব্দ ৩ মে.টন চাল কোথায় যাচ্ছিল?

দোয়ারাবাজারে পাচার চেষ্টার অভিযোগে সোমবার তিন ট্রাক সরকারি চাল আটক করেছে ওই উপজেলার থানা পুলিশ। আটককৃত চালের পরিমাণ ৩ মেট্রিক টন। গতকাল সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় উপজেলাধীন নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  ওইদিন সরকারি খাদ্যগোদাম থেকে চাল উত্তোলন করেছিলেন। আটক চালের ট্রাকগুলো তিনিই ভাড়া করেছিলেন। ট্রাকে যে চাল ছিল সেগুলো ছিল তারই গ্রহণকৃত সরকারি চাল। চাল পরিবহনের সময় উপজেলা সদরের পার্শ্বস্থ নৈনগাঁও গ্রামের সামনের সড়কে ট্রাক দুইটিকে দেখে সন্দেহপ্রবণ হয়ে স্থানীয় কিছু মানুষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ট্রাক চালককে চালের বিষয়ে প্রশ্ন করলে চালক কোন সদুত্তর দিতে না পারায় তারা চাল জব্দ করেছেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সংবাদে বলা হয়েছে, ট্রাকের চালক নাকি বলেছেন ওই চাল ছাতকের এক চাল ব্যবসায়ীর নিকট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই কথা বিবেচনায় নিলে পাচারের সন্দেহ বদ্ধমূল হয়। কারণ এই চাল নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়ার কথা, ছাতকের কোন চাল ব্যবসায়ীর নিকট নয়। তবে চাল আটকের ঘটনায় এখনই নিশ্চিতভাবে বলার উপায় নেই যে, চালগুলো পাচারের উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই এরকম মনে করে মন্তব্য করার সময় এখনও হয়নি বলেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। তবে যেহেতু পলিশ চাল জব্দ করেছে তাই অনুমান করা যায় এর ভিতরে কোন না কোন রহস্য রয়েছে। আমরা চাই এই রহস্য উদঘাটিত হোক। নতুবা দোষ না করেও যদি কোন ইউপি চেয়ারম্যান দোষের ভাগীদার হন সেটি হবে দুঃখজনক।
আমাদের সমাজ বাস্তবতায় সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ কিংবা পাচার করা খুব অস্বাভাবিক বিষয় নয়। মাত্রই কয়েকদিন আগে দিরাই উপজেলায় এরকম পাচারকালে সার উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ প্রকৃত লোকের কাছে না পৌঁছে ভিন্ন পন্থায় লোপাট হওয়াটা আমাদের দেশে একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। এমন বাস্তবতার কারণেই নরসিংপুর ইউনিয়নে নেওয়ার যোগ্য দুই ট্রাক চাল জব্দ করার বিষয়ে প্রথমেই নেতিবাচক চিন্তাটি সকলের মাথায় আসে। এরকম বাস্তবতার বাইরে আসার জন্য নানারূপ চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও  সেখানে খুব বেশি সফল হওয়া যাচ্ছে না।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, আটককৃত ট্রাকের চালক চাল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিংবা এগুলো কার চাল ছিল; সেবিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি। তাই ট্রাকচালককেও আটক রাখা হয়েছে। যে চালক তার ট্রাকে চাল পরিবহন করছেন তিনি চাল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটি বলতে পারবেন না এরকম কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি নিশ্চয়ই চাল নিয়ে নির্দিষ্ট কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। এমন কি তিনি কার চাল পরিবহন করছিলেন সে তথ্যও তার জানা থাকার কথা। আমাদের মনে হয় চালক সত্য গোপন করছেন। এ পর্যায়ে তার স্বাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনিই নিশ্চিত করে বলতে পারবেন চালগুলো ছাতকের চাল ব্যবসায়ীর নিকট নিয়ে যাচ্ছিলেন নাকি এগুলো নরসিংপুরই যাচ্ছিল। সুতরাং তাঁকে ভালভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা আবশ্যক।