দোয়ারাবাজারে বীজতলা ও আউশ জমি পানির নিচে

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলায় পাহাড়ী ঢল আর অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা নদীর পানি এখন বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার নি¤œœাঞ্চল পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি রয়েছেন। নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় জন চলাচলের কয়েকটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছাতক দোয়ারার রাস্তার তিন স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে নরসিংপুর, বাংলাবাজার, বোগলাবাজার, লক্ষীপুর ও সুরমা সহ ৫টি ইউনিয়নের । পানিবন্দি রয়েছে সদর ইউনিয়নের রাখালকান্দি, রায়নগর, বাগরা, সুন্দরপই, বড়বন্দ, গুচ্চগ্রাম, তেগাংঙ্গা, মাইজখলা, আংশিক নৈনগাঁও গ্রাম। সুরমা ইউনিয়নের শরিফপুর, ভোজনা, বৈঠাখাই, নুরপুর, সুনাপুর, আলীপুর, নন্দিগ্রাম, ইসলামপুর, কাউয়াগড়, উমরপুর, কালিকাপুর, কদমতলি গ্রামের।
এদিকে সুরমা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম্পের ভাঙা বেড়ি বাঁধটি মেরামত না করায় প্রতিবার পাহাড়ি ঢলের পানি মহব্বতপুর বাজারে ঢুকে বাজার সহ সকল দোকান পাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। রাবার ড্যাম্পের বেড়িবাঁধ খোলা থাকার ফলে বাঁধের আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলায় রোপা আমনের বীজতলা ও আউশধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সুরমা নদীর ভাঙনও বেড়ে চলেছে।
একাধিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় আজ (বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আরও পানি বৃদ্ধি পেলে চলতি পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এমন তথ্য দিয়েছেন দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুল মালেক।
সদর ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক মো. লাল মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। যে ভাবে পানি বাড়ছে রাতেও যদি একইভাবে পানি বাড়তে থাকে, তাহেল আমাদের ঘর-বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন, ‘অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার সকল রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং আউশ ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলায় অনেক পানিবন্দি মানুষ রয়েছেন। এসব মানুষের জন্য কিছু একটা করার চিন্তায় আছি।’
এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, ‘আমন ক্ষেতের বীজতলা ও আউশ ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। যেসব এলাকার ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে সেইসব মানুষদের আশ্রয়ের জন্য পার্শবর্তী বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হবে। পানি বৃদ্ধির জন্য দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য বলা হয়েছে।’