দোয়ারাবাজার সড়কের কাজ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ আমলে নেয়া হোক

রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলমান রয়েছে পুরো জেলাব্যাপী। সারা দেশে বিশাল উন্নয়ন কর্মকা-ের অংশই এগুলো। দেশে উন্নয়ন কাজে প্রচুর টাকা খরচ করা হচ্ছে। উন্নয়নের ব্যাপারে এই সরকারের মত আন্তরিকতা অতীতে দেখা যায়নি। তাই সাধারণ মানুষ মাত্রই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে সন্তুষ্ট। কিন্তু বাতির নীচে অন্ধকার থাকার মতো উন্নয়ন কর্মকা-ের নীচেও অবস্থান করছে দুর্নীতি নামক এক মহারাক্ষস। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বালিশকা- উদঘাটন হয়েছে, তাই বলে এ নিয়ে সোৎসাহে বাক্যবাণ নিক্ষিপ্ত হচ্ছে চতুর্দিক থেকে। কিন্তু এ তো শুধু রূপপুরেই নয়। সারা দেশের প্রতিটি ইঞ্চিতে এইসব দুর্নীতিবাজদের রমরমা দাপুটে অবস্থান। বুক ফুলিয়ে এরা উন্নয়নের টাকা হাপিস করছে। যে যত বেশি উন্নয়ন বরাদ্দ পকেটস্থ করে সে তত বড় করিতকর্মা বলে বিবেচিত হয় এই সমাজে। দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজ তোষণের এই সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা হলো বেকুবের কাজ। তবু বেকুবের মত কিছু মানুষ ও ব্যাপকভাবে গণমাধ্যম এই কাজটি করে যাচ্ছে। এরা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজ করেন, মোষের তাড়া খেয়ে রক্তাক্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও। এত গৌড়চন্দ্রিকা টানার কারণ হলো, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের চলমান কাজে অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত গতকাল প্রকাশিত একটি সংবাদ। সড়কটি প্রশস্তকরণ ও নতুন করে নির্মাণের কাজ চলছে। এখন রাস্তার দুই পাশে ৩ ফুট করে বক্স কাটা হচ্ছে। নিয়ম অনুসারে আড়াই ফুট গভীর করে বক্স কাটা হবে। কর্তিত বক্সের ১ ফুট বালু, পরের ১০ ইঞ্চি বালু ও কাটাপাথর বা ইটের কোঁয়া এবং শেষের ৮ ইঞ্চি বালু-পাথর মিশিয়ে ভরাট করার কথা। পরে পুরো রাস্তায় বিটুমিন বিছানোর কাজ করা হবে। এর আগে রাস্তা রোলিং করে সমান করাসহ অন্যান্য কাজ করা হবে। এখন এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, ঠিকাদার ঠিকমত বক্স ভরাট করছেন না। বালুর সাথে পাথর বা ইটের কোঁয়া মিশ্রণ করে ভরাটের পরিবর্তে পুরো বক্সটিই নাকি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়রা এ নিয়ে ঠিকাদারের লোকজনের সাথে কথা বলতে গেলে উলটো হুমকি-ধামকীর সম্মুখীন হন। যারা এ বিষয়ে প্রতিবাদী হবেন তাদের চাঁদাবাজি মামলায় হয়রানি করার ভয় দেখান ঠিকাদারের লোকজন। ফলে অসংগঠিত সাধারণ মানুষ চোখের সামনে হতে দেখা অনিয়মের বিরুদ্ধে তেমন করে সোচ্চারও হতে পারছেন না। বক্স ভরাটের পর রাস্তা রোলিং করা বা বিটুমিন বিছানোর সময় আরও কত কা- ঘটবে কে জানে।
প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথের। কাজের জায়গায় সার্বক্ষণিক তাদের লোক নিয়োজিত থাকার কথা। এছাড়া প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই কাজ তদারকি করে থাকেন। এরকম নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর থাকার পরও ঠিকাদার কীভাবে প্রাক্কলন অনুসারে কাজ না করে নি¤œমানের কাজ করে দায়িত্ব সাড়তে চাইছেন তা সকলেই বুঝেন। ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখার নীতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সরকার বলতে তো একক কোন ব্যক্তিকে বুঝায় না। সরকার ব্যবস্থার নীচ থেকে উপরে পর্যন্ত মিলিয়ে যে সিস্টেম তাই তো সরকার ব্যবস্থা। এখানে দুর্নীতি দূর করতে হলে ওই সিস্টেমের ভিতরে থাকা সকলকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমান সোচ্চার হতে হবে। তা হচ্ছে না। হচ্ছে না বলেই রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে যেমন একটি বালিশ তুলতে খরচ হয় সাত শতাধিক টাকা তেমন করেই দোয়ারাবাজার সড়কে বালু-পাথরের বদলে শুধু বালু দিয়েই বক্স ভরাট করা সম্ভব হয়।
দোয়ারাবাজার সড়কে কাজের ব্যাপারে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।