দোয়ারায় এক শিক্ষিকা ৪৫ দিনের ছুটি নিয়ে ৪ মাস যাবৎ অনুপস্থিত

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার এক শিক্ষিকা ৪৫ দিনের মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে ৪ মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপাস্থিত রয়েছেন। ওই শিক্ষক বাংলাবাজার ইউনিয়নের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, ঐ শিক্ষিকা অনুপস্থিতির বিষয়টা আমরা জানি। শিক্ষিকার বেতন বন্ধ আছে। তবে অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েই তার ব্যাপারে এ পর্যন্ত কোন প্রকার আইনি ব্যাবস্থা নিচ্ছেন না। তিনি বিগত বছরগুলোতে অনেক ফাঁকি দিয়েছেন, সব ছুটি আগেই ভোগ করেছেন ঐ শিক্ষিকা।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, আমরা সারা-দিন পরিশ্রম করে যে বেতন পাই। বদরুন নাহার চাকরিতে মাত্র কয়েক বছর পূর্বে যোগদান করে শিক্ষা অফিসের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে ছুটি না নিয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতাসহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন।
পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী জানান, বদরুন নাহার ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি গত ১৬ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ৪৫ দিনের মেডিক্যাল ছুটি নেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৩ মাস ১৪ দিন ধরে তিনি স্কুলে আসছেন না। আমি ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি আজ-কাল করে আসছেন না। এখন আমার কলও রিসিভ করেন না তাই বাধ্য হয়ে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং তার হাজিরার স্থলে লাল কালি দিয়ে অনুপস্থিত লিখে রেখেছি।
এ বিষয়ে শিক্ষিকা বদরুন নাহার মোবাইল কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, বদরুন নাহার অনুপস্থিত আমরা জানি। তার মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে তার বাবা বলছেন তার মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিবেন তিনি। বর্তমানে তার বেতন বন্ধ রয়েছে।