দোয়ারায় পানিবন্দি দুই শতাধিক গ্রাম

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
এমনিতেই করোনা মহামারির কারণে দোয়ারায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এখন আবার বন্যার থাবা। উপজেলার সকল বীজতলা পানীর নিচে তলিয়ে গেছে। আমন ক্ষেতের বীজতলা হারিয়ে এখন কৃষকরা এবার দিশেহারা। গত পাঁচদিন ধরে দোয়ারাবাজার উপজেলায় পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন-নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৯ ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার পরিবারের মানুষ এখল পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব মানুষের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলায় দোহালীয়া, পান্ডারগাঁও ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের সকল গ্রাম এবারের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের ও সুরমা ইউনিয়ন শতভাগ গ্রামের বাড়িঘরে পানি উঠেছে। নরসিংপুর ইউনিয়ন, বাংলাবাজার ইউনিয়ন, বোগলাবাজার ইউনিয়ন ও লক্ষিপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ ভাগ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এবারের বন্যায় ৯টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত পড়েছে। উপজেলার সকল ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, রাস্তা ঘাট, আউশ ক্ষেত, বীজতলা ও মাছের খামার তলিয়ে গেছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
মাজেরগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছে এ বছর। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক খবরা-খবর রাখা হচ্ছে। বন্যা মোকাবেলায় সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে মানুষের পাশাপাশি গভাদী পশু নিয়ে আশ্রয় নিতে পরেন। বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রীর দেওয়া হচ্ছে।