দোয়ারায় বাঁশতলা হকনগরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা হক নগর এলাকাটি মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত একটি পর্যটন এলাকা। প্রতিবছর দেশী বিদেশী পর্যটকরা এলাকার অপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করতে ছুটে আসছেন এই এলাকায়।
কিন্তু এলাকার কিছু অসাধু পাথরখেকো ও স্থানীয় বিজিবি সদ্যস্যদের কারণে পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য দিন দিন নষ্ট হতে চলেছে।
পাহাড় কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে যেমন এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে তেমনি মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
জানা যায়, বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ এলাকাটি ভারতের সু-উচ্চ পাহাড় ঘিরে রেখেছে তিন দিক থেকে। এখন পাথরকেখোদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পর্যটনের দিক থেকে সৌন্দর্যময় এই এলাকাটি। সরকারের পক্ষ থেকে বাঁশতলা এলাকায় পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ ঘোষণা থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী যোগসাজসে রাতের আধাঁরে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ থেকে ২০ দিন যাবৎ প্রতিদিন বহু শ্রমিক পাথর উত্তোলন করছে। কিন্তু উত্তোলিত পাথর সঠিক দামে বিক্রি করা হলে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা যেত। কিন্তু যাদের নিয়ন্ত্রণে পাথর উত্তোলন করা হয় সেই সিন্ডিকেট একত্রিত হয়ে নিলামে অংশগ্রহণ করে এবং মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় কয়েক লাখ টাকার পাথর কিনে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বিজিবি ১৫ থেকে ১৮ হাজার ফুট পাথর মাত্র ৪০ হাজার টাকায় নিলাম দিয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে বাইরের কোন পাথর ব্যবসায়ী নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। করলেও নানা ঝামেলায় পড়তে হয় তাদের।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশতলা হকনগর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার মো. মুনায়েম এই প্রতিবেদকের কাছে বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন। তিনি অনুরোধ করেন, ক্যাম্পে গিয়ে বক্তব্য আনার জন্য।
শনিবার বিকালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর অফিস থেকে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,‘পাথর উত্তোলনের সাথে বিজিবির সহযোগিতার অভিযোগ সঠিক নয়। এসব তথ্য মিথ্যা ও ভুয়া। সরকারিভাবে নিষেধ রয়েছে পাথল উত্তোলনে। অতীতে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি এসে পাথর জব্দ করে নিলামে বিক্রি করেছেন। আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করি পাথর উত্তোলন রোধ করতে। এলাকার গরিব মানুষরা চেষ্টা করেন পাথর উত্তোলনের জন্য, কিন্তু আমরা যখনই খবর পাই সাথে সাথে অভিযোগ চালিয়ে পাথর উত্তোলনের সরঞ্জাম উদ্ধার করি।’
বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম আহমদ চৌধুরী রানা বলেন,‘ বাঁশতলা হকনগর ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা। আমি বার বার উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় পাথর উত্তোলনের ব্যাপারে আলোচনা করেছি। যারা গোপনে পাথর উত্তোলন করছে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। এখন আর পাথর উত্তোলন হয় না।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন,‘ বাঁশতলা এলাকার পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ। যারা অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘আমরা চাই বাঁশতলা এলাকাটি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টরের সদর দপ্তরের এলাকা। এই এলাকার সৌন্দর্য্য রক্ষা করার জন্য আমরা যা যা দরকার তাই করব। উপজেলা প্রশাসনের নিকট আমাদের দাবি যে বা যারা এই এলাকার পাথর উত্তোলন করে সৌন্দয্য নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।’