দোয়ারায় বালতি দিয়ে চাল বিক্রি

দোয়ারাবাাজর প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার থেকে উপজেলা সদরের দুইটি ডিলারের মাধ্যমে সদর ইউনিয়নের ৭৫৫ জন উপকারভোগীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ৩০ কেজির চালের বদলে ডিলাররা উপকারভোগীদের বালতি দিয়ে ২৫/২৬ কেজি চাল দিচ্ছেন। বুধবার সকালে দোয়ারাবাজারের মহিলা মার্কেটে ডিলার আমরু মিয়া চাল বিক্রির সময় কোন তদারকি অফিসার না থাকায় উপকারভোগীদের কম চাল দিয়ে বিদায় দেন। এসময় মাজেরগাঁও গ্রামের রুয়াব আলী ও আল আমিন দুইজন গ্রাহক তাদের চাল বাজারের এক দোকানে ওজন করলে সাড়ে ২৫ কেজি ও ২৬ কেজি চাল পান তারা। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পরে।
খাদ্য বান্ধব কার্ডধারী রুয়াব আলী বলেন,‘আমার আগে প্রায় একশজনের মধ্যে চাল দেয়া হয়েছে এভাবে বালতি দিয়ে। পরে আমরা বাজারে গিয়া চাল ওজন করে দেখি চাল কম দেয়া হয়েছে।
মাছিমপুর গ্রামের আমিনুল বলেন,‘ বুধবার সকালে আমরা চাউল নেয়ার জন্য আসলে তখন দেখি বালতি দিয়া চাউল বিক্রি করছে ডিলারের লোকজন। আমি তখন বালতি দিয়া চাউল না দেয়ার জন্য বারণ করি। ডিলার আমরু মিয়া আমাকে ধমক দিয়া বলে, বালতি দিয়া চাউল নিলে নেও না নিলে বিদায় হও। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, আমরু মিয়ার ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়া অউক।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের ডিলারের চাল বিক্রির তদারকি অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ বলেন,‘ বুধবার সকাল থেকে আমাদের শিক্ষা সপ্তাহের ভিবিন্ন স্কুল মাদ্রাসার প্রতিযোগীদের বাচাই পর্ব ছিল। আমি সেই ঝামেলায় ব্যস্ত ছিলাম। এসময় আমরু মিয় আর তমাল সরকার চাল বিক্রি করছিল। চাল ওজনে কম দেয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি উপস্থিত হয়ে দেখি চাল আসলেই কম দেয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে চাল বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দেই এবং যাদেরকে কাছে চাল বিক্রি হয়েছে তাদের সঠিক মাপে দেয়ার পর পুনরায় চাল বিক্রির নির্দেশ দেয়া হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয় মমতাজ বলেন,‘যারা ওজনে কম দিয়ে চাল বিক্রি করেছে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কার্ডধারীদের বাকি চাল দেয়ার জন্য। আর ৩০ কেজির কম চাল দেয়া হলে সেচ্ছায় ডিলারশিপ ছেড়ে দিতে হবে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।