দোয়ারায় সংঘর্ষে আহত ১৪

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চামতলা মাদ্রাসার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে ঘর তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার বেলা ১১ ঘটিকার সময় মাদ্রাসার জায়গায় জোরপূর্বক ঘর তোলার ব্যাপারে জিয়াউল হকের বাড়িতে গিয়ে চামতলা মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল হক জিজ্ঞাসা করতে যান। এ নিয়ে উভয়ের মধে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সংঘর্ষ বাধে। এসময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ এগিয়ে গেলে জিয়াউলের লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম, মফিজ উল্লাহ, আবু বক্কর সিদ্দিক, জসিম উদ্দিন, মতিউর রহমান, আব্দুস সামাদ আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও গুরুতর আহত মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী দোলাল হোসেন ও মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল আজিজ, ৯ম শ্রেণির ছাত্র নাইম হোসেন কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে জিয়াউল হকের প্রতিবন্ধী পুত্র আমিরুল হক (৩০) সহ প্রতিবন্ধী জহিরুল হক (২৮), রাশিদা বেগম (২৬), ছালমা বেগম (২৪) ও জিয়াউল হকের স্ত্রী গোলাপজান বেগম (৫৮) কে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাদ্রাসার সুপার মো.আব্দুল হক জানান, মাদ্রাসার জায়গায় জোরপুর্বক ঘর বানানোর ব্যাপারে আমি জিজ্ঞাসা করতে গেলে জিয়াউল হকের প্রতিবন্ধি দুই মেয়ে আমার উপর মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। আমার চিৎকার শুনে শিক্ষক শিক্ষার্থী সবাই এগিয়ে এলে জিয়াউল হকের লোকজন আমাদের সবার উপর হামলা করে।
জিয়াউল হকের মেয়ে আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের রেকর্ডিয় জায়গায় মাটি কেটে ঘর বানাইছি। এমনকি গত একমাস যাবৎ আমরা ঘরে বসবাস করে আসতেছি। বুধবার আমার প্রতিবন্ধী দুই ভাই দুই বোনকে নিয় বাড়িতে ছিলাম। এসময় আমার বাবা বাড়িতে না থাকায় আমাদের রেকর্ডিয় জায়গা থেকে ঘরের চালের টিন বেড়া সহ সব কিছু তারা মাদ্রাসায় নিয়া গেছে। আমরা এর আগে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বারবার বিচারের জন্য গেলে আমরা সঠিক বিচার পাইনি।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল হক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে জিয়াউল হকের লোকজন। জিয়াউল হকের যদি কোন প্রকার দাবি থাকে তাহলে স্থানীয়দের নিয়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করব।