দোয়ারা-ছাতক সড়ক, ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতু

আকরাম উদ্দিন
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় দোয়ারা-ছাতক সড়কের ভাঙনে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাশেম কনস্ট্রাক্টশন ইন্টারন্যাশনাল জেভি কাজ শুরু করেছে। এলজিইডি’র আরটিআই পি-২ নামের প্রকল্পের আওতায় এই কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে সেতুর কাজে ধীরগতি আছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর বন্যায় ঢলের পানির প্রবল বেগে সুরমা নদীর পাড়ের একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এসময় নোয়াগাঁও এলাকায় দোয়ারা-ছাতক সড়কের বিরাট একটি অংশসহ সেতুটি ধসে পড়ে। এতে মানুষ চলাচলসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে ভাঙন এলাকায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে জন চলাচল সুবিধা তৈরি করা হয়। তখন থেকে ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন চলাচল করেন সাঁকো দিয়ে। কিন্তু যানবাহন চলাচল করে ভাঙনের উভয় পাড় থেকে। সুনামগঞ্জ থেকে গাড়ি গিয়ে থেমে যায় নোয়াগাঁওয়ের উত্তরপাড়ে। পরে যাত্রীরা নেমে সাঁকো পার হয়ে উঠেন দক্ষিণপাড়ের অন্য গাড়িতে। ওই গাড়ি চলাচল করে ছাতক পর্যন্ত। এভাবে সুনামগঞ্জ শহরেও আসা-যাওয়া করেন মানুষজন।
নোয়াগাঁও এলাকার শিক্ষার্থী জেসমীন বেগম, সীমা আক্তার ও মোহনা বেগম বলেন, আমাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুল কলেজে যেতে হয়। প্রায় সময় সাঁকো দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। আমাদের এলাকায় সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগও তাড়াতাড়ি কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন আহমদ বলেন, সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের দাবি দ্রুত যেন সেতুর কাজ হয়।
নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, এই ইউনিয়নের পুটিপশী এলাকায় কালভার্ট সেতু নির্মাণের ৫ বছর পর বন্যার পানির প্রবল বেগে ভেঙে পড়ে। এমন কাজ যেন আমাদের এই সেতুতে না হয়। এই জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকলে খেয়াল রাখতে হবে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যেন আন্তরিকভাবে ও সততার সাথে কাজ করেন এটাই দাবি আমাদের।
গাড়ি চালক আল রাব্বী ও আজির উদ্দিন বলেন, গত বছর সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গাড়ি চালাতে বড় সমস্যা হচ্ছে। রোজগারও কম হচ্ছে। সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হলে আমাদের জন্য এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য ভাল হবে।
চন্ডিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আয়ুব আলী বলেন, এই সড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করতো। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এখন দুই পাড়ে অল্প যানবাহন চলাচল করে। বেশিরভাগ যাত্রীরা ঘুরে ফিরে ছাতকে বা সুনামগঞ্জে আসতে হয়। এটা মানুষের মারাত্মক ভোগান্তি।
কামারগাঁওয়ের নির্মল নাথ বলেন, সহজ যোগাযোগে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। যোগাযোগ ভাল না হলে উন্নয়নও নেই। সুনামগঞ্জ ছাতক যোগাযোগের বাইপাস সড়ক এটি। এই সড়কে এখন সেতু নির্মাণ হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। কিন্তু সেতুর কাজ যেন ভাল হয় এবং তাড়াতাড়ি শেষ হয়, এটাই দাবি আমাদের।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাশেম কনস্ট্রাক্টশন ইন্টারন্যাশনাল জেভি’র ইঞ্জিনিয়ার সর্দার মাহবুবুর রহমান জানান, সেতুটি নির্মাণ করতে ১৮ মাস সময় দেয়া হয়েছে। ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুর প্রস্ত রয়েছে ৯.৮ মিটার। চুক্তিমূল্যে রয়েছে ৯ কোটি টাকার উপরে। এই সেতুর কাজ গুণগত মানে খুবই ভাল করার চেষ্টা করবো এবং সঠিক সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করা হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নোয়াগাঁও এলাকার সেতুর কাজ গুণগতমান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশাকরি সঠিক সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে।