দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে -জেলা ও দায়রা জজ

আকরাম উদ্দিন
বিদায়ী ও সংবর্ধিত অতিথি জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুক বলেছেন, ‘চাকুরির সুবাদে আমি সুনামগঞ্জে এসেছি শূন্য হাতে, বদলীর কারণে অন্যত্র চলে যাচ্ছি শূন্য হাতে। কিন্তু সমুদ্রের যত জলরাশি তার সমপরিমাণ মানুষের দেয়া সম্মান পেয়েছি আমি। সকলের কথা জীবনভর হৃদয়ে গেঁথে রাখবো। বদলীর কারণে বিদায় হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই সুনামগঞ্জে বেড়াতে আসবো বার বার।’ বৃহস্পতিবার বিকাল চারটায় জজ আদালত ভবনে দেয়া সংবর্ধনার জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুক বলেন, ‘এ দেশ স্বাধীন না হলে আজকের জজ আদালত হতো না। আপনার আমার ছেলে মেয়েরা চাকুরি পেতো না। সরকার চাকুরি দিয়েছে, পেনশন দিয়েছে। মৃত্যুর পর স্ত্রীও পেনশন পাচ্ছে। এসব টাকা আসছে দেশের সাধারণ মানুষের দেয়া ট্যাক্স থেকে। জজ আদালতে চাকুরি যাঁরা করেন, তাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিচার প্রার্থী মানুষেরা যাতে দ্রুততার সাথে ন্যায় বিচার পায়। সেসব কথা বুঝাতে গিয়ে প্রায়ই অফিসের কর্মকর্তাদের কাজে ত্রুটি ধরেছি, তাঁদের ভুলগুলো শুধরানোর চেষ্টা করেছি। আমি এখানে প্রায় ১০ মাস ২২দিন পর্যন্ত চাকুরি করেছি। অফিসের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে চালানোর জন্য অনেক ধরনের আচরণ করেছি কর্মকর্তাদের সাথে। অনেক সময় সুন্দরভাবে আচরণ না করে অসুন্দর আচরণ করেছি। এটা করেছি সময়মত অফিসে আসা এবং সঠিকভাবে কাজ করার জন্য। আদালতে আসা মানুষের কাজ যেন কম সময়ে শেষ করা যায় সেজন্য এটা করেছি। এখন যাঁরা জজ কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কাজ করেন, তাঁরা সকাল ৯টার মধ্যে আসেন। কাজ শেষ করে রাতে বাসায় ফিরেন। অফিসের কাজে এখন অনেকটা শৃংখলা এসেছে।’
জেলা জজশীপ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির বিচারক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। এতে বক্তব্য দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন, ভারপ্রাপ্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদার, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সহকারী জজ মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইন, জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খুরশেদ আলম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিমাংশু শেখ তালুকদার, জজ আদালতের নাজির দেবাশীষ দে, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. এনামুল হক, সেরেস্তাদার মো. কামরুজ্জামান, বেঞ্চ সহকারী মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শুরুতেই বিদায়ী জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জারীকারক মো. কামাল হোসেন, গীতা থেকে পাঠ করেন বেঞ্চ সহকারী ভানু চক্রবর্তী।
আইনজীবী সমিতির সৌজন্য সাক্ষাৎ
জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল আলম ঝিনুক এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ৫নং হল রুমে জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল আলম ঝিনুক এর বিদায় উপলক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অ্যাড. মল্লিক মো. মঈন উদ্দিন আহমদ ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল আলম ঝিনুক।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) সহ সুনামগঞ্জ জেলার দায়রা জজ আদালত ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সকল বিচারকবৃন্দ।
তাছাড়া বিদায়ী ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির বিজ্ঞ সদস্য অ্যাড. ফজলুল হক আছপিয়া, অ্যাড. মো. আফতাব উদ্দিন, অ্যাড. হুমায়ূন মঞ্জুর চৌধুরী, অ্যাড. স্বপন কুমার দেব।
এসময় সমিতির সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি