দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু করুন

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে জেলার ধর্মপাশা ও জগন্নাথপুরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে যে দুইটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেখানে ওই দুই উপজেলায় কাজ শুরুর শ্লথ গতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ধর্মপাশায় ১৫৭টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ বাঁধে কাজ শুরুর কথা বলা হয়। অর্থাৎ ধর্মপাশায় এক শ’র মতো বাঁধে এখনও কাজ শুরু হয়নি। অন্যদিকে জগন্নাথপুরে প্রকল্প সংখ্যা ২৮টি। এর মধ্যে একটি বাঁধে কাজের উদ্বোধন হয়েছে নামেমাত্র। মূলত এই উপজেলায় এখনও কোন বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সরকার নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। কাজের বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় নিলে নির্ধারিত সময়ে এই দুই উপজেলায় বাঁধের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে উভয় উপজেলার কৃষকরা বেশ উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের তরফ থেকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়াদের আর মাত্র দেড় মাস সময় বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে সঠিক মান বজায় রেখে বাঁধের কাজ শেষ হবে কীভাবে? হয় তড়িঘড়ি করে কাজ করার ফলে কাজের মান বজায় রাখা সম্ভব হবে না নতুবা কাজ শেষ করতে হয়ত মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লাগিয়ে ফেলা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আকষ্মিক বন্যা বা পাহাড়ি ঢল আসলে বোরো চাষীদের মহাসর্বনাশ ঘটে যাবে।
বাঁধ ও পিআইসি প্রথা সম্পর্কে সংবাদপত্রে অনেক লিখালিখি হয়েছে। কিন্তু এই লিখালিখিতে আদৌ যে কেউ কর্ণপাত করছেন না তা বাস্তব অবস্থা দেখলেই বুঝা যায়। অথচ এই পিআইসি প্রথাটি ছিল অতিশয় কৃষক-বান্ধব, স্বচ্ছ ও সততার সাথে কাজ বাস্তবায়ন করার একটি পন্থা। অনেকেই অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এই পিআইসি প্রথা নিয়ে তেমন সন্তুষ্ট নন। তারা ঠিকাদারী প্রথায় স্বাচ্ছন্দ অনুভব করেন। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে ঠিকাদারি প্রথাটি ছিল চরম দুর্নীতিপ্রবণ একটি ব্যবস্থা। যার হাতেনাতে প্রমাণ মিলে ২০১৭ সনের শতভাগ ফসল ডুবির মধ্য দিয়ে। ওই মহাসর্বনাশে কৃষকদের চোখের অশ্রুরধারার মধ্য থেকে উদ্ভব ঘটে শতভাগ পিআইসি প্রথা। কিন্তু এখন এই প্রথাটিকে অকার্যকর করে ফেলা হচ্ছে। পিআইসিগুলোতে সুবিধাভোগীরা ঠাই করে নিচ্ছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আস্কারায়। এরা পিআইসি’র মাধ্যমে কাজের পদ্ধতিটিকেও ঠিকাদারি প্রথার মত দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেলেছে। পিআইসিতে পছন্দের লোক অন্তর্ভুক্তির পর ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রতিবাদের ফলে জেলার একজন ইউএনওকে সম্প্রতি বদলি হতে হয়েছে।
খবরে জগন্নাথপুর ও ধর্মপাশার বাঁধের তথ্য প্রকাশ পেলেও পুরো জেলার চিত্র একরকমই। এ যেন আগুন নিয়ে ছেলে খেলা করা হচ্ছে। এটি এক ধরনের জুয়া খেলার মতও বটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে জিতে যাওয়া যাবে আর কোন কারণে প্রকৃতি বিরূপ হলে কৃষকদের আবারও চোখের জলে হাওর ভরবে। সরকার কাজ শুরুর বিভিন্ন ধাপের যে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে অনুসারে কেন কাজ শেষ করা যায় না? কেন সময়মত গণশুনানী গ্রহণের মাধ্যমে সঠিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পিআইসি গঠন শেষ হয় না? কেন সময়মত বাঁধের কাজ শুরু করা যায় না? আরেকটি প্রশ্ন, একই বাঁধে বছর বছর কেন মাটি ফেলতে হবে? বাঁধের ছবি দেখলে বুঝা যায় অধিকাংশ জায়গাই অক্ষত রয়েছে। কিন্তু তারপরেও একই বাঁধে নতুন প্রকল্পের নামে প্রয়োজনাতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলোর উত্তর খোঁজা দরকার। আমরা চাই না এই গণমুখী পিআইসি পদ্ধতিটি মহল বিশেষের দুরভিসন্ধির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠুক।
দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু করতে আমরা দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানাই। একই সাথে কাজের যথাযথ মান বজায় রাখাতেও তাঁদের অনুরোধ করি।