দ. সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলাবাজার পার্শ্ববর্তী (কান্দিগাঁর মাদ্রাসার পাশের সড়কে) সড়কে বাস ও কারের  মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একই পরিবারের তিনজন এবং কার চালকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন বাসযাত্রী। বুধবার বেলা পৌঁনে ১২ টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেটের টুকের বাজার থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসা একটি কার (নম্বর ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৫৯৮৪) এবং সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী বাস (নম্বর সিলেট-জ-০৪-০০৭৮)’ পাগলাবাজারের পাশের কান্দিগাঁও মাদ্রাসার সামনে এসে মুখোমুখী সংঘর্ষ বাধায়। এসময় ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৩ জন এবং কার চালকসহ ৫ জন মারা যান। এরা হলেন- আব্দুশ শহীদ (৭০), তার স্ত্রী হাসনাফুল (৬০), মেয়ে আয়েশা বেগম (২৬) এবং তাদের আত্মীয় আইজুন নেছা (৬০) ও কার চালক সাব্বির আহমদ (৩৫)। আব্দুস শহীদের বাড়ী সিলেটের টুকের বাজার ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামে। নিহত আইজুন নেছা আব্দুশ শহীদের মেয়ের শাশুরি হন। আইজুন নেছার বাড়ী সিলেটের বিমানবন্দর থানার ছাতল গ্রামে। কার চালক সাব্বির আহমদ সিলেটের গোপালের রব্বানী মিয়ার ছেলে। দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত বাসযাত্রী মুর্শেদা জাহান (৫০)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে        
ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা সুনামগঞ্জ, কৈতক এবং স্থানীয় স্বাস্থকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর পরই দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় মদনপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. শাহ আলম (৩২), জামালগঞ্জের কলকতা গ্রামের মো. মসদ্দর আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৬৩), ছাতকের জাউয়ার আব্দুল কাদিরের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৩৫), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নোয়াখালী বাজারের আহমদ আলীর মেয়ে শাহানারা (২৮), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সামসু মিয়ার ছেলে পায়েল আহমদ (৩০) ও দিরাই উপজেলার নরত্তোমপুর গ্রামের মো. মজন মিয়ার ছেলে মো.সুজন মিয়াকে (৩৪)। এরা সকলেই দুর্ঘটনা কবলিত বাসের যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী কান্দিগাঁওয়ের লিপন মিয়া বলেন,‘বাস এবং কারটি মুখোমুখী সংঘর্ষ বাঁধলে আমরা দৌড়ে এসে দেখতে পাই কারটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। নিহত যাত্রীদের লাশ বিকৃত হয়ে আছে। নিহত চালকের পা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কারে আটকে আছে। শেষে এলাকার মানুষ মিলে লাশ গাড়ী থেকে বের করি।’
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ্ খান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থলে যান।
হাইওয়ের জয়কলস ফাঁড়ির ইনচার্জ রুনু মিয়া বিকাল ৪ টায় জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লাশগুলো ময়না তদন্ত ছাড়া দাফনের অনুমতি দেবার আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলে স্ব স্ব পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।



আরো খবর