ধনী এলাকায় সচল গরীব এলাকায় বন্ধ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় অতিদরিদ্র এবং মৌসুমী বেকার শ্রমিক পরিবারের জন্য ৪০ দিন বা কর্মসৃজন কর্মসূচির বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। এতে করে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিরূপ প্রভাব পড়েছে মৌসুমী বেকার শ্রমিক পরিবারগুলোর ওপর। চলতি বছরে বন্যায় হাওরাঞ্চলের ওই দুটি উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত ব্যক্তি যার কাজের সামর্থ আছে কিন্তু ভূমিহীন, যে ব্যক্তির মাসিক আয় চার হাজার টাকার কম বা মাছ চাষের জন্য পুকুর অথবা কোনো প্রাণিসম্পদ নেই, যারা কাজ করতে আগ্রহী কিন্তু কোনো কাজ পায় না এমন ব্যক্তিদের একটি পরিবার থেকে কাজের জন্য ১ জন সদস্য নির্বাচন করা হয়। একেক জন শ্রমিকের ২টি পর্যায়ে ৮০ দিনে প্রতি কর্ম দিবসে ২০০ টাকা হারে ৮ হাজার টাকা মজুরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে দারিদ্রতার হার ২০% বা তার উপরে থাকায় ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক এ প্রকল্পের অধীনে পুকুর বা খাল পুনঃ খনন, বাঁধ নির্মাণ বা পুনঃ নির্মাণ (পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত), গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ কাজের জন্য ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজে নিয়োজিত ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী এখানকার দারিদ্রতার হার ১৭.৮ শতাংশে নেমে আসায় প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
গত ২ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ধর্মপাশায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভায় এলে সেখানে উপস্থিত সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নাকি ধনী এলাকার মানুষ হয়ে গেছি। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ মন্ত্রীর এলাকা নাকি গরীব। সেখানে প্রকল্পটি চালু আছে। এটা মন্ত্রীকে খুশি করার জন্য যেই-ই এই কাজ করুক তা সঠিক করে নাই। সুনামগঞ্জের যে সমস্ত গরীব এলাকা আছে সব জায়গাতেই এটি চালু করা উচিত।’
জয়শ্রী ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের শ্রমিক কেশব চন্দ্র তালুকদার জানান, এ প্রকল্প চালু থাকায় তিনি মাঝে মধ্যে কাজের সুযোগ পেতেন এবং পরিবারের আয় বর্ধক কাজে সহযোগীতা করতে পারতেন। কিন্তু এখন তিনি তা পারছেন না।
জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সাথে নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রীর ডিও লেটারসহ গত ২৩ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে আমাদের জানানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নেতিবাচক উত্তর এসেছে। সাম্প্রতিক ভয়বাহ বন্যায় এখানকার দারিদ্রতার হার বেড়েছে। হাওরাঞ্চলের কথা বিবেচনা করে প্রকল্পটি চালু করা উচিত।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত এ প্রকল্পটি চালু করার জন্য একটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।’