ধর্মঘট পরিস্থিতি থেকে পরিবহন খাতকে রক্ষা করুন

সুনামগঞ্জ-সিলেট রোডে বিআরটিসি বাস সার্ভিস নিয়ে বেসরকারি বাস মালিকদের যে আপত্তি সেটি কি আইনি পন্থায় আলোচনায় বসে নিষ্পত্তির অযোগ্য? কেন যাত্রীদের কিছু দিন পর পরই এ নিয়ে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের ধর্মঘটে নাজেহাল হতে হয়? কেন ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে যাত্রীদের মনে শঙ্কা তৈরি করা হয়? বলাবাহুল্য সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডে হাতে গুনা কয়েকটি বিআরটিসির বাস বিশাল যাত্রী চাহিদার প্রেক্ষাপটে নিতান্তই অপ্রতুল। এই পথে যে পরিমাণ যাত্রী চলাচল করেন তার একেবারেই নগণ্য সংখ্যক বিআরটিসির বাসে চড়েন। যাত্রীদের বিশাল অংশই বেসরকারি পরিবহনগুলোর উপর নির্ভরশীল। এই সড়কে বিআরটিসির বাস যেখানে প্রতিদিন চলে মাত্র ৬টি সেখানে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ীই তাদের বাস চলে ৪ শ’র উপরে। সুতরাং বুঝাই যায়, বেসরকারি বাসগুলোই প্রধানত সিলেটগামী যাত্রীদের প্রধান অবলম্বন, অন্তত এখন পর্যন্ত। তাই বেসরকারি পরিবহন মালিকরা যদি ধর্মঘট শুরু করেন তাহলে যাত্রীদের যে বিড়ম্বনা বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু হয়েছে গত ৩ জুন থেকে। প্রায় আড়াই মাস হয়েছে এই সার্ভিসের বয়স। বেসরকারি বাস মালিকরা বিআরটিসির সার্ভিস শুরুর দিন থেকেই বিরোধিতা শুরু করেছিলেন। বিআরটিসি যেদিন বাস সার্ভিস চালু করে সেদিন বেসরকারি বাস মালিকরা ধর্মঘট ডেকে তাদের প্রতিবাদ জানান দিয়েছিলেন। পরে আরেক দফা ধর্মঘটের হুমকি দানের পর এবার তারা দ্বিতীয় দফা অনুরূপ হুমকি প্রদান করলেন। কোন সংগঠন ধর্মঘট ডাকতে পারেন। বিধিসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ স্বাপেক্ষে আইন তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। কিন্তু সকলেই এই ধর্মঘটকে কেন অনাকাক্সিক্ষত, অবাঞ্ছিত, বেআইনি কিংবা হুমকি হিসাবে দেখছেন তার পিছনের কারণ সকল পক্ষের বুঝা দরকার। বেসরকারি পরিবহন মালিকরা মূলত একটি অবৈধ দাবিকে কেন্দ্র করে এই ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। একটি সরকারি সড়কে কোন কোন সার্ভিস চলাচল করতে পারবে সেটি ঠিক করে দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সাধারণ যাত্রীরাও চান পরিবহন সেবায় প্রতিযোগিতা বাড়–ক। তাতে সেবার মানোন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু বেসরকারি পরিবহন মালিকরা এই বিষয়টি মানতে নারাজ। সড়কটিকে তারা নিজেদের সম্পদ মনে করেন। তারা চান তাদের কথা মতোই পরিবহন ব্যবস্থা প্রযুক্ত হবে এই সড়কে। সুতরাং এমন অনৈতিক ধর্মঘটের বিরুদ্ধে জনমত তীব্র হবে এটাই স্বাভাবিক।
বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর আড়াই মাসেও কেন বেসরকারি পরিবহন মালিকদের সাথে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলো না, এই প্রশ্ন এখন সকলের। এখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের শিথিল মনোভাবের পরিচয় মিলে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইনে বিধিবদ্ধ বিআরটিসি ও বেসরকারি পরিবহন সমিতি সরকারের আইনানুগ সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। কারও কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য তারা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই যাত্রী হয়রানি তৈরিকারী ধর্মঘটের দিকে যেতে পারেন না। স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং বেসরকারি পরিবহন নেতৃবৃন্দকে একত্রে বসেই সমঝোতা করতে হবে। কারও একক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ নেই।
বেসরকারি বাস মালিকরা তাদের উপযোগিতা টিকিয়ে রাখতে মৌলিক যে কাজটি করা দরকার অর্থাৎ নিজেদের সেবার মানোন্নয়ন সেই জিনিসটি বেমালুম ভুলে বসে আছেন। তারা সংঘশক্তির ক্ষমতা কাটিয়ে নিজেদের অযৌক্তিক দাবি আদায়ের চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের এই অবস্থান আমরা সমর্থন করি না। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান ২ সেপ্টেম্বরের আগেই সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সাথে আলোচনা করে আপনারা ধর্মঘট পরিস্থিতির বিড়ম্বনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা করুন।