ধর্মপাশার ইউএনও করছেন ঠিকাদারের কাজ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণের জন্য নির্মিত নামফলকের ঠিকাদারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই ঠিকাদার সেজে কাজ করিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এসব নাম ফলকের কাজ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে করা হলেও ফলকগুলোতে সৌজন্যে উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একজন ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর পরিষদ সংলগ্ন দুটি নামফলক থেকে টাইলস অপসারণ করিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২৫টি সাইকেল ক্রয়, প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষে একটি দ্রতগামী ইঞ্জিলচালিত ট্রলার তৈরিসহ ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের দুই পাশে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন ও সেলবরষ ইউনিয়ন, সেলবরষ ও পাইকুরাটি ইউনিয়ন, পাইকুরাটি ও মধ্যনগর ইউনিয়ন, ধর্মপাশা বারহাট্টা সড়কে ধর্মপাশা উপজেলা ও বারহাট্টা উপজেলার নাম উল্লেখ করে স্বাগতম ও বিদায় লেখা সম্বলিত মোট আটটি ফলক নির্মাণের জন্য ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার আরপি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ঠিকাদার জিয়াউর রহমান যথাসময়ে সাইকেল ক্রয় ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু নাম ফলকের নির্মাণ কাজ চলমান থাকে। নাম ফলকের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করে বিশেষ টাইলস বসানোর কাজ নিজেই করাবেন বলে ঠিকাদারের কাছে ইউএনও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে জানান ঠিকাদার।
পরে ইউএনও ধর্মপাশা উপজেলার একজন স্থানীয় সংবাদকর্মীর সোনালী ব্যাংকের হিসাবে (টাকা হস্তান্তরের রশিদ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত) ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নিজেই টাইলসের কাজ করাতে থাকেন। যদিও ফলকে নাম লিখন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার। উপজেলা পরিষদের ব্যয়ে নির্মিত ফলকগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করায় সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাঁর পরিষদের পাশে নির্মিত দুটি নাম ফলক থেকে টাইলস অপসারণ করিয়েছেন।
সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন বলেন, ‘যেখানে উপজেলা পরিষদের টাকা সেখানে উপজেলা প্রশাসন তিনি কী করে লিখেন? যাকে দিয়েই কাজ করিয়ে থাকুন তা সমীচীন হয়নি। তাই নাম ফলক থেকে মিস্ত্রী দিয়ে টাইলস অপসারণ করিয়েছি।’
আরপি এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমান জানান, টাইলসের জন্য ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও টাইলসের কাজটি ইউএনও নিজে করাবেন বলে তার (ঠিকাদার) কাছে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ধর্মপাশার একজন সংবাদকর্মীর ব্যাংক হিসেবে পাঠিয়েছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, তিনি নাম ফলকের কোনো কাজ করান নি। তবে নাম ফলকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ঠিকাদারকে। টাইলসহ অন্যান্য কাজ ঠিকাদার নিজেই করিয়েছেন বলে জানান ইউএনও। টাইলসের টাকা ঠিকাদার যে কারও ব্যাংক হিসেবে পাঠাতে পারে, সেটি ঠিকাদারের ব্যক্তিগত বিষয়।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ফলকে শুধুমাত্র উপজেলা প্রশাসনের নাম থাকবে, যা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।’