ধর্মপাশায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে অবরোধমুক্ত হলো সেই অসহায় পরিবার

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সংবাদ প্রকাশের পর ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অবরোধমুক্ত হয়েছে মধ্যনগর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের সেই অসহায় পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান ওই গ্রামে গিয়ে বিজয় সরকারের পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করেন। মাস ছয়েক আগে বিজয় সরকারের বসতঘরের তিনপাশে টিনের বেড়া দিয়ে অবরোদ্ধ করেছিল প্রতিবেশী ও কয়েকজন ধর্মীয় নেতা।
জানা যায়, বিজয় সরকার ২০১৬ সালে ওই গ্রামে ০.৫৫ একর জমি সরকারি বিধি মোতাবেক ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পান। ওই জমিতে বতসঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি। ওই বসতঘরের পূর্বদিকে স্থানীয় রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রম অবস্থিত। ওই মিশনের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার গোপেশ সরকার, মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদার ও হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল সরকার মিশনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় সরকারের উঠানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই তারা বিজয় সরকারের বসতঘরের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে এবং প্রতিবেশী সত্য বিশ্বাস বসতঘরের পশ্চিমপাশে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে অবরোধ করে রেখেছিল। এ নিয়ে রোববার বিজয় সরকার তাকে অবরোধমুক্ত করে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার সংবাদ প্রকাশিত হলে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসে। তাই তিনি পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করতে মঙ্গলবার দুপুরে সেই গ্রামে গিয়ে উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে দীর্ঘ দিনের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি টিনের বেড়া অপসারণ করে পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করেন।


এসময় মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস সহ রামকৃষ্ণ মিশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘পরিবারটি সত্যিই অবরুদ্ধ ছিল। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে টিনের বেড়া অপসারণ করে পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করা হয়েছে।’