ধর্মপাশায় ডোবা বন্দোবস্ত নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৫

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় একটি খাস ডোবা বন্দোবস্ত নেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের গলহা গ্রামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত তিনজনকে ওইদিন দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মধ্যনগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যনগর ইউনিয়নের গলহা গ্রামের পূর্ব দিকে গজারিয়া বিলে ৯২ শতাংশ পরিমাণের একটি খাস ডোবা রয়েছে। স্থানীয় একটি মন্দিরের নামে এই ডোবাকে বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকারের লোকজন ও গলহা গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়ার লোকজন এটিকে মাছ চাষসহ কৃষি কাজে ব্যবহারে জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বর্তমানে সোনা মিয়ার লোকজন ডোবাটি জোরপূর্বক ভোগ দখলে রয়েছে। এ নিয়ে পরিতোষ সরকারের লোকজনের সাথে সোনা মিয়ার লোকজনের বিরোধ চলে আসছে। কিছুদিন আগে সোনা মিয়ার আপন ছোট ভাই আব্দুল হক জায়গাটি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেবের কাছে আবেদন করেন। আবেদন প্রাপ্তির পর সহকারী কমিশনার বিষয়টি তদন্তের জন্য মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিনকে নির্দেশ দেন। মো. হাফিজ উদ্দিন বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি তদন্তের জন্য সেখানে যান। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন মারমুখী অবস্থান নিলে মো. হাফিজ উদ্দিন সেখান থেকে চলে আসেন। পরে সকাল ১০টার দিকে সোনা মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে পরিতোষ সরকার ও তার লোকজন বাড়ি ফেরার সময় তাদের ওপর অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় সোনা মিয়ার লোকজন। হামলায় রতন মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, মহসিন, মানিক মিয়া, নূর মিয়া, রিয়াদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদেরকে প্রথমে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে রতন মিয়া, গিয়াস উদ্দিন ও মানিক মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওইদিন দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিতোষ সরকার বলেন, ‘আমার কোনো পক্ষ নেই। ওই ডোবাটি মন্দিরের নামে ব্যবহারের জন্য ১০ বছর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বন্দোবস্ত নিয়েছিল। কিন্তু সোনা মিয়ার লোকজন কয়েক বছর ধরে তাদের সরিয়ে দিয়ে ডোবাটি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে।’
সোনা মিয়া বলেন, ‘আমার লোকজন কোনো হামলা করেনি বরং পরিতোষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমার ছোট ভাই খাজনা দিয়ে ডোবাটি দীর্ঘ বছর ধরে ভোগ দখলে আছে।’
মধ্যনগর থানার এসআই সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’