ধর্মপাশায় ত্রাণের তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে ধর্মপাশা সদর, সেলবরষ ও জয়শ্রী ইউনিয়নের তালিকায় মৃত ব্যক্তির নামসহ আত্মীয়স্বজনদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে ত্রাণ হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের দেওলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম মড়ল, জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদেহরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. তরিকুল ইসলাম ও গত মঙ্গলবার বিকেলে সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি কাজ সপ্তাহখানেক আগে শুরু হয়। তালিকায় দিনমজুর, চায়ের দোকানদার, রিকশা/ভ্যান চালক, হোটেল রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ তালিকায় স্থান পাওয়ায় ব্যক্তিরা ২০ কেজি করে চাল ও স্ব স্ব মোবাইলে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। আর এই সুযোগে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন তার স্ত্রী, ছোট ভাই ও মা’সহ কয়েকজন আত্মীয়র নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আত্মীয়রা এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। এ ব্যাপারে মুঠোফোন রিসিভ না করায় সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি।
সেলবরষ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম তালিকায় নিজের ছেলে, বোন, ভাতিজা, ভাগ্নি, ভাগ্নে, কয়েকজন আত্মীয়, এক মৃত ব্যক্তিসহ চাকুরীজীবির নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আবার একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন একাধিক উপকারভোগীর নামের পাশে। যাতে করে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহজেই এক মোবাইলে চলে আসে। ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম জানান, তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম কীভাবে এসেছে তা তিনি জানেন না। আত্মীয়দের মধ্যে যারা ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য তাদের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে। সরকারি অন্য সুবিধাভূক্ত (ভিজিএফ/ভিজিডি) ব্যক্তির নাম তালিকায় দেওয়া যাবে না এমনটি তিনি জানেন না। যাদের মোবাইল নেই তাদের জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জয়শ্রী ইউনিয়নে তালিকা প্রণয়নকারীরা তাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এ ছাড়াও জয়শ্রীর ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা তাদের পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর একাধিকবার ব্যবহার করেছেন। তবে জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী জানান, তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তালিকা চূড়ান্ত হলে অভিযোগ দিতে পারতো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘উপজেলার দশটি ইউনিয়নের তালিকা পেয়েছি। কিন্তু তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষক দিয়ে তালিকা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। যে সমস্ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তার তদন্ত করে কোনো অনিয়ম থাকলে সংশোধন করে তালিকা চুড়ান্ত করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।