ধর্মপাশায় পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার না করে ধামাচাপার চেষ্টা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বিদ্যা মিয়া ধর্মপাশা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের অনিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সুযোগ পায় সে। গত বুধবার জনতা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের আওতাভূক্ত ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১৫ নম্বর কক্ষে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ওই পরীক্ষার্থী। কিন্তু ওইদিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের উপজেলা প্রশিক্ষণ সমন্বকারী সোহেলী আক্তার তাকে নকল করতে দেখেন এবং খাতা নিয়ে সহকারি কেন্দ্র সচিব শুলশান আরা পারভীনের কাছে রাখেন। শুলশান আরা পারভীন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব আবদুল মালেক খানকে    
জানান। খবর পেয়ে আবদুল মালেক খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ওই পরীক্ষার্থীর খাতাটি অন্যান্য পরীক্ষার্থীর খাতার সাথে প্যাকেট করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেন।
নকল পেয়েও পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার না করার খবরটি কিছুক্ষণের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের মুঠোফোনে নির্দেশ দেন। পরে কেন্দ্র সচিব বিকেল তিনটার দিকে সহকারি কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও তদারকি কর্মকর্তাকে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ডেকে পাঠান। সেখানে ওই পরীক্ষার্থীকে বহিস্কারের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিকেল ৫টা বেজে যায়।
এ দিকে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার না করে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবকে সর্তকতামূলক চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
কেন্দ্রের তদারকি কর্মকর্তা সোহেলী আক্তার জানান, তিনি নকলসহ খাতা নেওয়ার পর বহিস্কারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সুপারিশ করেছিলেন।
সহকারি কেন্দ্র সচিব ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গুলশান পারভীন জানান, বিষয়টি কেন্দ্র সচিবকে সাথে সাথে জানানো হয়েছে। দায়িত্বে কোনো প্রকার গাফিলতি করা হয়নি। কেন্দ্র সচিব খবর পেয়ে এসে তাৎক্ষণিক এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক খান জানান, তিনি একটি সতর্কতামূলক নোটিশ পেয়েছেন। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেননি। বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের গাফিলতির কারণে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাঠাতে দেরি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ওই পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিবকে পরবর্তী পরীক্ষায় সর্তকর্তার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে।’