ধর্মপাশায় পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহের অভিযোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় এইচএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে বহিরাগতরা পরীক্ষার্থীদের মাঝে নকল সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বহিরাগতরা পরীক্ষার্থীদের মাঝে তাড়াহুড়া করে নকল সরবরাহের সময় একজন কর্তব্যরত কক্ষ পরিদর্শক পায়ে আঘাতও পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভ্যানু ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা চলাকালে এমনটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কক্ষ পরিদর্শক।
জানা যায়, ওইদিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগে বহিরাগত কিছু লোক পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তিন নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থীদের মাঝে নকল সরবরাহ করতে থাকে। বহিরাগতরা পরীক্ষার্থীদের মাঝে তাড়াহুড়া করে নকল সরবরাহের সময় ওই কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শক ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সাদেক আহমেদ বাম পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
শিক্ষক সাদেক আহমেদ জানান, তিন নম্বর কক্ষে চারজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় পরীক্ষার খাতার ওএমআর শীট গোছানোর কাজ চলছিল। বহিরাগতদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীরা নকল নিতে তাড়াহুড়া করার সময় তিনি বাম পায়ে আঘাত পেয়েছেন। পায়ের ব্যথার কারণে পরবর্তী পরীক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এক নম্বর কক্ষের কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক মানিক সিংহ জানিয়েছেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কিছু লোক কেন্দ্রে প্রবেশ করছে বলে দেখেছেন কিন্তু ওএমআর শীট গুণতে থাকার কারণে কে বা কারা প্রবেশ করেছে তা দেখেননি তিনি।
পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি তাদের বাধা দেন। কিন্তু নকল সরবরাহ করা হয়েছে বলে কেউ তাকে জানায়নি। এমনকি কোনো কক্ষ পরিদর্শক আহত হয়েছেন বলে জানা নেই তাঁর।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের বিষয়টি সত্য নয়, অযথাই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কেউ নকল করলে শিক্ষকেরা (কক্ষ পরিদর্শক) সাথে সাথে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাকে জানায়নি কেন?’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার জানান, বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কেন্দ্র সচিব, দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ও ইউএনওকে জানাতে পারতেন। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল (শনিবার) কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা বলবো।’



আরো খবর