ধর্মপাশায় বিনা চিকিৎসায় এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

ধর্মপাশায় প্রতিনিধি
অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী উসমান (৭৮)। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, হাপানিসহ নানান জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। আবেদন করেও পাননি সরকারি চিকিৎসা সহায়তা। চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসেননি সমাজের ধনবাসহ বিবেকবান মানুষ। ফলে রোববার দুপুর দেড়টায় নিজ বাড়িতে ধুঁকে ধুঁকে স্বাধীন বাংলাসহ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন একাত্তরের ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা আলী উসমান অবিবাহিত জীবনে তাঁর এক ভাতিজাকে নিজের ছেলের মতো লালন করেছেন। অসুস্থ্য হওয়ার পর ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৬ মাস চিকিৎসা নিয়ে অর্থাভাবে বছর খানেক আগে তিনি বাড়ি ফিরে এসছিলেন। আর্থিক সংকটের কারণে আর চিকিৎসাসেবা নিতে পারছিলেন না তিনি। তাই সরকারি সহায়তার জন্য গেল ১৬ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিনি লিখিতভাবে আবেদন করেছিলেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এদিকে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জানাযা শেষে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নূর হোসেন বলেন, ‘স্বাধীন বাংলায় বিনা চিকিৎসায় আমার সহযোদ্ধা এক ভাইয়ের মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে এ জন্যই কি দেশ স্বাধীন করেছিলাম আমরা?’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ওই মুক্তিযোদ্ধার পালিত ছেলেকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগীতা ও পরামর্শ দিয়েছি। অনলাইন থেকে আবেদন ফরমও সরবরাহ করা হয়েছে তাকে। কিন্তু ওই ছেলে পরে আর যোগাযোগ করেনি।’
তবে মুক্তিযোদ্ধা আলী উসমানের পালিত সন্তান আকতার হোসেন বলেন, ‘জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য সরবরাহকৃত ফরমটি পুরণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। কিন্তু আমাকে এর কোনো প্রমাণপত্র (রিসিভ কপি) দেওয়া হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, ‘জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবর যে আবেদনটি পাঠানোর কথা সে আবেদন করা হয়েছে কি না সে ধরনের কোনো তথ্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমাকে দেয়নি।’