ধর্মপাশায় বেতন ভাতা মিলছে না ৭৯ গ্রাম পুলিশের

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ইউপি অংশের তিনটি উৎসব ভাতা, ইউপি অংশের তিন মাসের বেতন ভাতা এবং থানায় হাজিরার জন্য ষোল মাসের যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা না পেয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছেন ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৭৯ জন গ্রাম পুলিশ। ৭৯ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যের মধ্যে ১০ দফাদারের বেতন ভাতা জন প্রতি ২৯ হাজার ৪০০ টাকা করে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ও ৬৯ জন মহল্লাদারের বেতন ভাতা জন প্রতি ২৮ হাজার ২০০ টাকা করে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকাসহ সর্বমোট ২২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতন ভাতা না পেয়ে এ সকল গ্রাম পুলিশ সদস্য তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন। এ নিয়ে গত বৃস্পতিবার তারা (গ্রাম পুলিশ) ইউএনওর সাথে দেখা করে কথা বলেছেন। ইউএনও তাদেরকে ফান্ডে টাকা নেই বলে জানিয়েছেন। ফান্ডে টাকা আসলে তাদেরকে (গ্রাম পুলিশ) সবার আগে টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্থ করেছেন ইউএনও।
জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের বেতন ভাতা এবং উৎসব ভাতা সরকারি ও ইউপি অংশ থেকে প্রদান করা হয়। থানায় হাজিরার জন্য যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের ১% হিসেবে প্রাপ্ত রাজস্ব আয় থেকে পরিশোধ করা হয়। এ সকল গ্রাম পুলিশ সদস্যদেরকে সরকারি খাতের সমূদয় বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ২০১৭ সালের ইউপি অংশের দুটি ও চলতি বছরের ইউপি অংশের ১টি উৎসব ভাতা বাবদ প্রতি দফাদারের ৫ হাজার ১০০ টাকা করে ও প্রতি মহল্লাদারকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে পরিশোধ করা হয়নি। সরকারি অংশের বেতন ভাতা জুন মাস পর্যন্ত পরিশোধ থাকলেও গত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইউপি অংশের বেতন ভাতা বাবদ প্রতি দফাদারের ৫ হাজার ১০০ টাকা ও প্রতি মহল্লাদারের ৪ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। থানায় হাজিরার জন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যরা যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা বাবদ জন প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা করে পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ধর্মপাশা সদর, সেলবরষ, পাইকুরাটি, জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা থানায় হাজিরার জন্য এক মাসের ভাতা পেলেও মধ্যনগর, চামরদানি, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাদের থানায় হাজিরার জন্য কোনো ভাতা এখনও পাননি।
বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের মহল্লাদার আশিক মিয়া জানান, তার ২৮ হাজার ২০০ টাকা বকেয়া বেতন ভাতা না পেয়ে ধারদেনা করে কোনো রকমে তাকে সংসার চালাতে হচ্ছে। পাওনাদারদের টাকাও পরিশোধ করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কান্তি চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকারি অংশের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব খাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে তাদের ইউপি খাতের বেতন ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন অর্থ বছরে ইউপি অংশে প্রাপ্ত রাজস্ব আয় থেকে তাদের বেতন ভাতা পরিশোধের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’