ধর্মপাশায় ভাড়া করা শিক্ষকে পাঠদান

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
চাকরিদাতাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তথ্য গোপন করে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন সেনারুল ইসলাম। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলেও থাকেন না নিয়মিত। মাসে দুয়েকবার আসেন কর্মস্থলে। অনুপস্থিতিতে তাঁর কাজ করে দেওয়ার জন্য মাসে তিন হাজার টাকায় এক ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছেন তিনি। যথারীতি বেতন ভাতাদিও উত্তোলন করে ভোগ করছেন। বসবাস করছেন নিজ কর্মস্থল থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে। সেনারুল ইসলাম ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কাইটাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সেনারুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, সেনারুল ইসলাম ২০০৬ সালে এসএসসি ও ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে ¯œাতক (সম্মান) পাস করেন। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতভূক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ¯œাতক বা সমমানের ডিগ্রি চাওয়া হয় এবং ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন চাকরি প্রত্যাশীদের অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেনারুল ইসলাম ¯œাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী না হয়েও ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চাকরি প্রত্যাশী হিসেবে অনলাইনে আবেদন করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের ৬ মাস আগে আবেদনকারী সেনারুল ইসলাম ৫৪২০৭৯৬ রোল নম্বরের অধিকারী একজন প্রার্থী হিসেবে ২০১৮ সালের ১১ মে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ লাভ করেন। নিয়োগ লাভের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত থাকেন না। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সেনারুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক তিন জন। এর মধ্যে তুরানা মানখিন নামের একজন শিক্ষক রয়েছেন প্রশিক্ষণে। সেনারুল ইসলাম কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলম কোনো রকমে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সেনারুল ইসলাম বিদ্যালয়ের সভাপতি জনসন চিসিমের মেয়ে রুমা ¤্রংকে প্যারা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করে তিনি ময়সনসিংহ শহরে অবস্থান করছেন। রুমা ¤্রংকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করেন সেনারুল।
প্যারা শিক্ষক রুমা ¤্রং জানান, সেনারুল ইসলাম বিদ্যালয়ে মাঝে মধ্যে আসেন। গত মাস থেকে সেনারুলের বদলে ক্লাস নিচ্ছেন তিনি। এ জন্য তাকে তিন হাজার টাকা দেন সেনারুল।
প্যারা শিক্ষক নিযুক্ত করে পাঠদান চালাচ্ছেন ও ময়মনসিংহে অবস্থান করছেন স্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সেনারুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যাই। অসুস্থতাজনিত কারণে কিছুদিন ছুটি (মেডিকেল লিভ) নিয়েছিলাম।’ সত্যিই কী অসুস্থ ছিলেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষক বলেন, ‘বিষয়টি বুঝতেই পারছেন।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলম বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ে সভাপতি জনসন চিসিমের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ভাড়া শিক্ষক নিয়ে ক্লাস করানো অন্যায়। চাকরি নেওয়ার সময় যদি লুকোচুরি করে থাকলে পানিসমেন্ট হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এ সমস্ত বিষয় আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো। গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট ছাড়া পুরুষরা শিক্ষক হবার যোগ্য হয় না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ধাপ থাকে। এমনটি হওয়ার কথা নয়। যদি এমনটি হয় তাহলে তার চাকরি থাকার কথা না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখবো।’