ধর্মপাশায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে রক্ত ঝরলো শিক্ষার্থীর

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে রক্ত ঝরিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। আহত শিক্ষার্থী হিরণ আহমেদ ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। সে জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদেহরিপুর গ্রামের আ. ছালেকের ছেলে। রোববার দুপুর দুইটার দিকে ওই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। হিরণ আহমেদকে ওইদিন বিকেলে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর পরিবার, স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার থেকে ওই বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু হিরণ আহমেদ পরীক্ষার ফি জমা না দিয়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। রোববার দুপুর দুইটায় হিরণ যথারীতি বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে পরীক্ষার ফি দেওয়া হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করেন। এ সময় হিরণ পরীক্ষার ফি তার শ্রেণি শিক্ষকের কাছে জমা দিয়েছে বলে জানায়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি শ্রেণি শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞেস করে এর সত্যতা পাননি। হিরণ মিথ্যে কথা বলায় প্রধান শিক্ষক তার (হিরণ) বাবাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য বলেন। হিরণ শিক্ষককে জানায় সে তার বাবাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে না। এ সময় প্রধান শিক্ষক রেগে গিয়ে হিরণকে এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করেন। এতে হিরণের বাম হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত মারাত্মক জখম হয় এবং ওই হাত থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে হিরণ বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
হিরণের চাচাতো ভাই তানভীর আহমেদ বলেন, ‘হিরণ মিথ্যে কথা বলে থাকলে আমাদের জানালে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত শাসন করতাম। কিন্তু এভাবে বেত্রাঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করা উচিত হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
হিরণ মিথ্যে কথা বলায় বেত্রাঘাত করেছেন বলে স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘রক্ত ঝরার মতো আঘাত করা হয়নি। সে (হিরণ) পরবর্তীতে ব্লেড দিয়ে নিজের হাত নিজে কেটেছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বেত্রাঘাত করা আইনত অপরাধ। বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’