ধর্মপাশায় শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা সালিশে মীমাংসা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী আলম মিয়ার ওপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই হামলা চালায় একই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। শুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। অন্যদিকে, ওইদিন রাতেই আহত শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল মোতালিব এ ব্যাপারে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিন ইসলাম অভিসহ ছয়জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
জানা যায়, ঘটনার আগের দিন অর্থ্যাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সকালে বিদ্যালয়ের বারান্দায় আহত শিক্ষার্থীর সাথে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাজিন ইসলাম অভির ধাক্কা লাগে। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর রেশ ধরে পরের দিন বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগে বিদ্যালয়ের বারান্দায় অভিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আলমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আলমকে কলম দিয়ে খুঁচিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে হামলাকারীরা। ওইদিনই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জিএম হায়দারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত কমিটিকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়।
এদিকে, গত সোমবার বিকেলে সালিশের মাধ্যমে এ ঘটনার মীমাংসা হয়েছে। সালিশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচ বহনের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বলা হয়। এতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা সম্মতি প্রকাশ করে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান জানান, ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলে শুনেছেন। সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করার প্রস্তুতি থাকায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
সালিশে উপস্থিত থাকা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহম্মেদ জানান, উভয়পক্ষের (আহত শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজন) সম্মতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুঠোফোন রিসিভ না করায় ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।