ধর্মপাশায় ৪০০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার, আটক ২

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ট্রাকটির সামনে লেখা ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, নেত্রকোনা ডিভিশন’। যে কেউ দেখলে মনে করবেন ট্রাকটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে নিয়োজিত। ট্রাকের উপরের অংশ ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো। কিন্তু মোড়ানো ত্রিপলের ভেতর কী আছে তা হঠাৎ দেখে বুঝার উপায় নেই। গত রোববার গভীর রাতে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গজহরপুর এলাকার মেসার্স মা অটো রাইচ মিল থেকে ওই মালবাহী ট্রাক ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সোমবার সকাল আটটার দিকে যখন ট্রাকটি ধর্মপাশা উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোডস্থ ত্রিমুখী মোড়ে পৌঁছায় তখন পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করে। আটকের পর পুলিশ দেখতে পায় ত্রিপলের ভেতর খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত চালের বস্তা। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল রয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাক চালক ও চালকের সহযোগী জানায় এসব চাল উপজেলার মধ্যনগরের মেসার্স ফারুকী অটো রাইস মিল মালিকের। তারা চালের বস্তাগুলো মধ্যনগরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাকের চালক আবুল কাসেম ময়মসিংহের আকুয়া দরগাপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং চালকের সহযোগী নুরুল আমিন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার মুন্সীপাড়া গ্রামের মো. সাগর মিয়ার ছেলে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পারে ওইসব সরকারি চাল খাদ্য গুদামে সররবাহ করা হতে পারে। এমন অভিযোগে চালক ও চালকের সহযোগীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় চালক, চালকের সহযোগী এবং মের্সাস ফারুকী অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী বিভু রায়কে আসামী করে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় ধর্মপাশা থানার এসআই জাহঙ্গীর হোসাইন বাদী হয়ে মামলা একটি করেছেন। বিভু রায় মধ্যনগরের কায়েতকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. এজাজুল ইসলাম জানান, ট্রাকে ৪০০ বস্তা চাল রয়েছে। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি চাল রয়েছে। ওইসব চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহের জন্য পায়তাঁরা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের জন্য মেসার্স ফারুকী অটো রাইচ মিল মালিকের সাথে ৫শ ৪৭ মেট্রিক টন চালের চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তি অনুযায়ী পাক্ষিক হিসেবে ৯২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মেসার্স ফারুকী অটো রাইচ মিল মালিক বিভু রায়ের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেলিম হায়দার বলেন, ‘বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলে মিল মালিকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়েছে। এসব চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করার চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিল মালিকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’