ধানবালিকার মুখ

শাহরিয়ার বিপ্লব

ধুলো হাওয়ায় উড়ে আঁচল
খুলে যায় কিশোরীর বেনীফুল
এলোচুল উড়ে মেঘলা আকাশে
দুরন্ত ঝড়ের ঝাপটা হাওয়ায়।

সিগারেটের ঠোলে রিং বানিয়ে
বাতাসের পানে দিতাম ছেড়ে
ধানের খলায় দৌঁড়তে দৌঁড়তে
হঠাৎ দমকা হাওয়ায় আছড়ে পড়ে
মাখামাখি করি ধুলো আর ধানে।

ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যায় মন
উড়ে যায় বসন্ত বালক
চোখ বন্ধ করে এখনো দেখি
ধানের ক্ষেতের মাঝে লুকিয়ে আছে
কোন এক ধানবালিকার মুখ।

গরুর গাড়ীর পিছনে লুকিয়ে
ঝুলে ঝুলে যাওয়া।
আমগাছের ডালে দড়ি বেঁধে
দোলনায় দোল খাওয়া।
মাড়াখলার ছইয়ায় বসে সিঁদলের
মাখানো ভাত অমৃতের স্বাদ পাওয়া।

পুকুরের শুকনোতলায় সামান্য জলে
মাঝে মাঝে উঁকি দেয় জিয়ল মাছ
এখানেই ডুবে গায়ে সাবান মাখে
জোয়ান যুবতী সকাল সন্ধ্যা রাত।

বৃষ্টি নাই, পানি নাই, জল নাই,
উদুম শরীরে খালি মাঠে জটা খুলে
দুহাত উপরে তুলে
কিরানিরা কাঁদে, বৃষ্টি মাগে।
আল্লাহ -ভগবান।
পানি দাও পানি দাও।

পিছনে পিছনে ত্রিশুল নিয়ে ঘুরি
শিবের ছেলের মতো,
এখোনো কতদিন খুঁজে খুঁজে ফিরি।

চৈত্র সংক্রান্তির মেলাশেষে
শেষ বিকালের ফিরত বেলায়
কালবৈশাখীর ওলটপালট দাপট
টিন উড়ে, চাল উড়ে, বেড়া উড়ে
জীবন উড়ে, যৌবন উড়ে, জনপদ উড়ে।

শেষ হয়, সবশেষ হয়
স্থির হয়। বৃষ্টি হয়। ঠান্ডা হয়।
তাল লয়। সবই ঠিক হয়।
ঘুরে জীবন। ঘুরে যৌবন।
চলে যায় বৈশাখ। আসে বৈশাখ।
ফিরে না কেবল ধানবালিকার মুখ।
ফেলে আসে বৈশাখ।