ধানের দাম ১৫০০ টাকা মণ করার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ধানের দাম বৃদ্ধি, বর্ষায় হাওরে জেলে-কৃষকদের মাছ ধরার সুযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বেলা ১১টায় ‘হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এই মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে জানানো হয়, সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষকদের প্রতিমণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৯০০টাকা। কিন্তু এখন কৃষকরা সেই ধান বিক্রি করছেন মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০টাকা দরে। প্রতিমণ ধানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষকেরা বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই ধান বিক্রি করতেও পারছেন না। এ কারণে হাওর এলাকার সব পর্যায়ের কৃষকরা ঘরে ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ধানের দাম না বাড়ায় কৃষকেরা কৃষির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকেই গত বছর হাওরে ফসলহানির পর কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়েছেন। অভাবের কারণে মানুষ বাড়িঘর ছাড়ছে। সরকার হাওরের মানুষের পাশে না দাঁড়ালে হাওর এলাকার কৃষি ধ্বংস হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বর্ষায় হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন কৃষক ও জেলেরা । কিন্তু ইজারাদারদের দৌরাত্মে কৃষক-জেলেরা এখন হাওরে নামতে পারছেন না।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জে এবার বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। অথচ সরকারিভাবে ধান কেনা হচ্ছে মাত্র ৬ হাজার মেট্রিক টন। এই ধানও কৃষকেরা গুদামে দিতে পারছেন না। একটি মহল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গুদামে ধান দিচ্ছে। এতে কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারিভাবে প্রতিমণ ধানের দাম ধরা হয়েছে এক হাজার ৪০টাকা। মানববন্ধনে ধানের দাম এক হাজার ৫০০টাকা মণ করার জন্য দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানো, গ্রামে গ্রামে অস্থায়ী ধানক্রয় কেন্দ্র চালু, হাওরের ভাসানপানিতে জেলে-কৃষকদের মাছ ধরার সুযোগ প্রদানের দাবি জানান বক্তারা।
আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক রমেন্দ্র কুমার দের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন, সদস্যসচিব চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সমাজকর্মী নির্মল ভট্টাচার্য, মানব চক্রবর্তী, শিক্ষক চন্দন রায়, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, কৃষক মঙ্গল মিয়া, আপ্তাব উদ্দিন, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসাদ মনি প্রমুখ।