ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের কৃষকদের কষ্টে ফলানো বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে সরাসরি ধান ক্রয়সহ বিভিন্ন দাবিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দুপুরে বাংলাদেশ কৃষক ও খেতমজুর সমিতির উদ্যোগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতি বছর বোরো মওসুমে সরকার ধান ও চালের দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু কৃষক সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারে না। সরকারিভাবে ধান ক্রয় ব্যবস্থাপনা কৃষকদের অনুকূলে না থাকায় মধ্যসত্ত্বভোগীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে কৃষকেরা তাদের ধানের ন্যায্য দাম পায় না। তারা সরকারি গোদামে ধান বিক্রি করতে পারে না। গোদামে ধান নিয়ে গেলে কৃষকেরা নানাভাবে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়। এজন্য হাওর এলাকার সুবিধাজনক স্থান বিবেচনায় এনে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয় করার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমার কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর জেলা কৃষক সমিতির আহবায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘এখন হাওরে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে কৃষকদের ধানের উৎপাদন খরচই উঠছে না। কৃষকেরা হতাশ। কৃষকেরা লোকসান দিতে দিতে এখন কৃষির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। হাওরের কৃষি রক্ষা না হলে কৃষক বাঁচবে না। তাই ধানের দাম প্রতিমণ এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে।’
স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে কৃষক সমিতির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকন, মুক্তিযোদ্ধা জাফর আহমদ, কৃষক তাজুল ইসলাম, রুহেল আহমদ, শিক্ষার্থী নিমাই সরকার, পিন্টু ভট্টাচার্য, সানন্দ বর্মন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জে এবার দুই লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। হাওরে ধান কাটা চলছে। জেলায় এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে নয় লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে গত বছর সরকারিভাবে সাড়ে সাত হাজার মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছিল। এবার চাহিদা দেওয়া হয়েছে ৫০হাজার মেট্রিক টন। তবে বরাদ্দের পরিমাণের বিষয়টি এখনো নির্ধারণ হয়নি। বরাদ্দ আসলে ধান ক্রয় শুরু হবে।