ধানের মূল্য পতনে বাজার মন্দা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এখনো পুরো দমে জমে উঠেনি ঈদের কেনাকাটা। জামাকাপড়ের দোকানগুলোতে এখনো ভিড় জমাননি সাধারণ ক্রেতারা। এই ঈদে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা নিয়ে অনেকটা আশাবাদী থাকলেও সে আশায় গুড়েবালি। ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা ধান বিক্রিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আর এতেই মন্দাভাব পড়েছে ঈদের বাজারে। ঈদের আর মাত্র ৪ দিন বাকী থাকলেও এখনো আশানুরূপ ক্রেতা আসেননি ঈদের কেনাকাটায়। এজন্য ঈদ বাজার নিয়ে বেশ শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। এ বছরে হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন ঈদের বেচাকেনাটা জমজমাটই হবে। কিন্তু সেটা এখনো হয়ে উঠছে না।
দোকনিরা জানান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ঈদ মানেই কৃষকদেরকে কেন্দ্র করে। এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা ভালো হওয়ার কথা। কিন্তু ধান কৃষকরা পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু বিক্রির সময় ধানের দাম পর্যাপ্ত পরিমাণ না পাওয়ায় এখনো কৃষকরা বাজারে আসছেন না। তবে, দু’একদিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, কষ্টের ধান এখন একেবারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই তারা বিক্রি করছেন না ধান।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নোয়াখালি বাজার, পাথারিয়া বাজার, পাগলা বাজার ও আক্তাপাড়া (মিনাবাজার) ঘুরে দেখা যায়, কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় নেই। ক্রেতারা দোকানে যারা আসছেন তারাও নিজেদের জন্য না কিনে শিশুদের জন্য কিনেই চলে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বাজার ঘুরে আবার যাচাই করে নিচ্ছেন বাজারে কাপড়ের দাম কেমন।
দোকানিরা বলছেন, গ্রামীণ জনপদের এই বাজারগুলো সাধারণত ২৭ রমজানের পরেই বেশি জমজমাট হয়। তারা আশা করছেন ধানের দাম না বাড়লেও আগামী ২৬-২৭ রোজা থেকে বাজারের অবস্থা ভালো হবে। এখন থেকে ক্রেতা আসা আস্তে আস্তে শুরু হয়েছে।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে নানান জাতের পোষাক এসেছে বাজারে। এদের মধ্যে সাতভাই চম্পা ও বাহুবলি নামের পোষাক অন্যতম। এগুলো মেয়েদের মাঝে বেশ সাড়াও জাগিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমান অবস্থা যদি বিরাজমান থাকে তাহলে ঈদের পরে বেশ ক্ষতির মুখেই পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের।
পাথারিয়া বাজারের কৃষকক্রেতা শামসুল হক বলেন, ‘এ বছর ধানের ফলন হয়েছে ঠিক কিন্তু সেই মোতাবেক ধানের দাম পাচ্ছিনা। ধানের দাম বেশি না হলে বিক্রি করবো না। হাতে যে টাকা আছে তা দিয়ে পরিবারের শিশুদের জামা কিনে দেবো। পরে ধানের দাম বাড়লে ধান বেচে না হয় আমরা বড়োরা কাপড় কিনবো।’
নোয়াখালী বাজারের বিশিষ্ট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বলেন, ‘আস্তে আস্তে মানুষ আসতে শুরু করেছে। আমাদের এই কৃষি প্রধান এলাকার মানুষেরা ঈদের দিন রাতেও কাপড় কিনেন। আমরা আশাবাদী বাকী দিনগুলোতে ভালো বিক্রি আসবে। তবে এটা সত্য যে ধানের দাম বেশি হলে বাজারের অবস্থা আরো ভালো হবে।’
পাগলা বাজারের আনন্দ গার্মেন্টসের স্বত্ত্বাধিকারি মো. শাহ্ আলম বলেন, ‘এখনো বাজারে বেচাকেনার ধুম পড়েনি। অনেক নতুন নতুন কালেকশন থাকার পরও মানুষ আসছে না। ’