ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো এখন দরকার দ্রুত বাস্তবায়ন

অবশেষে কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সরকার কৃষকদের নিকট থেকে আরও আড়াই লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাজারে ধানের পড়তি দাম উঠানোর লক্ষে সরকারের এই বিশেষ ব্যবস্থা। বুধবার কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী ঢাকায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। চলতি বছর সরকার কৃষকদের নিকট থেকে মাত্র দেড় লাখ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনের পর এত স্বল্প পরিমাণ ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করায় বাজারে ধানের দাম নেমে আসে তলানিতে। মণপ্রতি কৃষকদের তিন শ’ টাকার মতো লোকসান দিতে হয় এই দামে। কৃষকদের এই বিপর্যস্ত অবস্থা নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তখন কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী নানা ধরনের কথা বলে বিদ্যমান সমস্যাকে বরং আরও প্রকট করে তুলেছিলেন। এমন অবস্থায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি বাড়তি এই ধান কেনার নির্দেশনা দেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীদ্বয় বলেছেন বাড়তি আড়াই লাখ টন ধান সংগ্রহের পরও যদি ধানের দাম না বাড়ে তাহলে সরকার আরও ধান কিনবে। কৃষকদের অনুকূলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। আমাদের ধারণা আগে থেকেই যদি মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হতেন তাহলে শুরুতেই এমন ঘোষণা আসত।
সরকার বাড়তি আড়াই লাখ টন ধান কিনবেন, এটি আশা জাগানিয়া তথ্য। কিন্তু এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। সংবাদপত্রে পরিবেশিত তথ্য মোতাবেক প্রথম ধাপের দেড় লাখ টন ধান সংগ্রহের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র ২৯ হাজার টন বোরো ধান কেনা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল থেকে এই সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেড় মাস অতিক্রম হয়েছে। এই দেড় মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ ভাগ ধান সংগ্রহ করা গেছে। এই হারে সংগ্রহ অভিযান চলতে থাকলে কখন প্রথম ধাপের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে বাড়তি আড়াই লাখ টন ধান সরকার সংগ্রহ করবেন সেটি এখন সবচাইতে বড় প্রশ্ন। এই জায়গায় সরকারকে আরও গতিশীল হতে হবে।
তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা ভাবছেন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে। সরকার এবার আতপ ও সিদ্ধ মিলিয়ে সাড়ে এগারো লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই চাল কিনা হবে মিল মালিকদের নিকট থেকে। কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে সরকার যদি সরাসরি কোন চাল সংগ্রহ না করে পুরোটাই ধানের আকারে কৃষকদের নিকট থেকে সংগ্রহ করতেন তাহলে এবার বাড়তি আড়াই লাখ টন সহ মোট ২০ লাখ টন ধান কিনা সম্ভব হত । সেটিও সংগত হত বলে অভিজ্ঞদের মত। এতে বাজারে ধানের উপযুক্ত মূল্যও নিশ্চিত হত। ক্রয় করা ধান মিলারদের মাধ্যমে চালে পরিণত করা তেমন কোন সমস্যা নয়। কিন্তু ধানের চাইতে চাল কেনায় অধিক গুরুত্ব এবং এখানে শুধু মিল মালিকদের একচ্ছত্র অধিকার দেয়ায় বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধানের দাম অত্যধিক কমিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এমন কোণঠাসা অবস্থা থেকে দেশের বিশাল কৃষক সমাজকে উদ্ধার করার দায়িত্ব সরকারের।
বিলম্বে হলেও ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে পড়ে প্রকৃত কৃষকরা যাতে বঞ্চিত না হয় সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকার ও সরকারি দলকে গ্রহণ করতে হবে। আরেকটি জিনিস নজরে রাখতে হবে, সময় যত গড়াবে কৃষকের গোলার ধান ততই কমতে থাকবে। বাঁচার তাগিদে কৃষকরা প্রতিদিনই ধান বিক্রি করছেন। এই ধান আবার মজুতদার বা মিলমালিকদের গুদামেই জমতে শুরু করবে। ধান কেনায় বিলম্ব হলে বাড়তি লক্ষ্যমাত্রার সুবিধাটুকুও ওই মধ্যসত্ত্বভোগীরা চেটেপুটে খাবে। তাই কৃষককে সুবিধা দিতে হলে দ্রুত ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা দরকার।