ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বাড়াতে হবে

বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করণার্থে প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ এবং মৌসুমের শুরু থেকেই ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর পরামর্শ দেয়া হয় খাদ্য বিভাগের প্রতি। বোরো মৌসুম শুরুর প্রারম্ভে এমন একটি সভা আয়োজন করার জন্য আমরা জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগকে অভিনন্দন জানাই। একই সাথে কামনা করি সভায় কৃষকের স্বার্থে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে তা যেন আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়ন করা হয়। এই জেলার সিংহভাগ কৃষক বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। বিগত বছরগুলোতে কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা অবস্থায় পতিত হয়েছেন। অনেকে দাম বাড়ার আশায় ধান বিক্রি করেননি। এখন নতুন ধান উঠার প্রাক্কালেও তারা ধানের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে ধানের বাজার দর গ্রহণযোগ্য রাখতে সরকারের ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ অভিযানটি কার্যত কৃষকদের কোন স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারছে না। বরং এই খাদ্য বিভাগ খাদ্যশস্য সংগ্রহের নামে কতিপয় মিল মালিক ও মধ্যসত্ত্বভোগী ফরিয়া ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষায়ই অধিক মনোযোগী। এছাড়া জেলায় যে পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয় তার বিপরীতে ধান সংগ্রহ করা হয় অতি সামান্য পরিমাণে যা মূলত ধানের বাজার দর পতনকে কোনভাবেই আটকাতে পারে না। কৃষকরা যদি ধানের ন্যায্যমূল্য না পান তাহলে দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় যে বিপর্যয় নেমে আসবে তা রোধ করার সাধ্য কারও নেই। তাই সকলের উচিত উৎপাদক কৃষক সমাজের ন্যূনতম স্বার্থ রক্ষা করা। এক হিসাবে দেখা যায় কৃষকের এক মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয় ৭৪৩ টাকার মত। সরকার যে ন্যায্যমূল্য বেঁধে দিয়েছেন সেই মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষক সমাজের অস্তিত্ব কিছুটা টিকে থাকবে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখে আসছি কৃষকরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলায় এবার ৮ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। অথচ মঙ্গলবারের সভায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদ্যগুদামের ধারণ ক্ষমতার দোহাই দিয়ে মাত্র ২০ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের অনুমোদন দেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানোর কথা বলেছেন। তাঁর এই কথা প্রচ- রকমের কৃষক ও কৃষি স্বার্থ বিরোধী বলে আমরা মনে করি। জেলায় খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতার যে অজুহাত তিনি দিচ্ছেন সেটি খোঁড়া যুক্তি মাত্র। কারণ সরকার ধান সংগ্রহ করে কেবল জেলার গুদামগুলোতেই মজুদ রাখবেন কেন? সারা দেশে যেসব গুদাম রয়েছে সেখানে এই ধান রাখার ব্যবস্থা সরকারই করবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী গুদামের ব্যবস্থা করে সরকার ধান সংগ্রহ করবে। উৎপাদিত ধানের ন্যূনতম ৫০% অর্থাৎ ৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান যাতে এবার এই জেলা হতে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রয়োজনে চাল কিনার লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে। সংগ্রহকৃত ধান মিলারদের মাধ্যমে চালে পরিণত করার কাজটি সরকারি উদ্যোগেই করা সম্ভব।
সুনামগঞ্জের সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনীতিক ও সুধী সমাজ যদি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে এখন থেকেই সোচ্চার না হন তাহলে এবারও দর পতন জনিত সর্বনাশের কবলে পড়ে কৃষক সমাজ চোখে অন্ধকার দেখবেন।